কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৪, ০৯:২১ এএম
আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১০:০৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

স্বামীকে ফোন করে ২ সন্তানসহ বাঁচার আকুতি নারীর, পরে মিলল মরদেহ

স্বামী ও সন্তানসহ নাজিয়া আক্তার। ছবি : কালবেলা
স্বামী ও সন্তানসহ নাজিয়া আক্তার। ছবি : কালবেলা

রাজধানীর বেইলি রোডের বহুতল ভবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মা ও দুই শিশু রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজিয়া আক্তার (৩১) তার দুই সন্তান আয়ান (৮) ও আয়াতকে (৬) নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বেইলি রোড এলাকায় থাকতেন। তার স্বামী মো. আশিক পেশায় ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্যবসার কাজে বনানীতে যান তিনি। সে সময় দুই সন্তানকে নিয়ে ওই ভবনের তৃতীয় তলার একটি রেস্তোরাঁয় খেতে যান নাজিয়া। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বামীকে ফোন দিয়ে আগুনের ঘটনা জানান।

পরে তৃতীয় তলার সিঁড়ি থেকে আয়ানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে নাজিয়া ও আয়াতও মারা যায়। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে নাজিয়ার আত্মীয় রিফাত হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ‘কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট’ ভবনে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

জানা গেছে, বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটি সাততলা। এর নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত পুরোটাই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে নিচতলায় একাধিক কাপড়ের দোকান ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যের যন্ত্রাংশ বিক্রি হয়। দ্বিতীয় তলা থেকে শুরু করে ওপরের দিকে কাচ্চি ভাই, কেএফসি ও পিৎজা ইনসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিচতলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, আটকেপড়াদের অনেকে রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন। তারাই মূলত সেখানে আটকা পড়েন। এই অবস্থায় ভবনের তিনতলা এবং সাততলায় আটকেপড়া ব্যক্তিরা উদ্ধারের আকুতি জানাতে থাকেন।

এদিকে রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল একটি ভবনে আগুনের ঘটনায় অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্তলাল সেন ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানান। আর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত চলে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দ্রুত আসতে বললেন। এখানে এসে যা দেখলাম তা ভয়াবহ অবস্থা। বার্ন ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত ১০ জন মারা গেছেন। অপর দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৩ জন মারা গেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা এখন পর্যন্ত বেঁচে আছেন। তাদের বেশির ভাগের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা বেঁচে আছেন তাদের বাঁচি রাখার চেষ্টা করছি। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন। বাইরে কেউ আছে কি না এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঢামেকে ১৪ জন ও বার্নে আহতের সংখ্যা ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাইকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয় ৪২ জনকে। তাদের মধ্যে চার শিশু ও ২১ নারী ছিলেন। বাকিরা পুরুষ। এ ছাড়া জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ জনকে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘জুলাই সম্মাননা স্মারক’ পেলেন রাবির তিন সাংবাদিক

বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার

স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি নিয়ে বড় সুখবর

প্রস্রাবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে

‘বেইমান’ আখ্যা পাওয়া ৩ নেতাকে দলে ফেরাল বিএনপি

টানা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন হাসনা মওদুদ

স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা উত্তরের সাবেক সদস্য সচিবকে গুলি

বিপিএল মাঝপথে রেখে পাকিস্তানে ফিরলেন মোহাম্মদ আমির

৩৬৩ আইফোনসহ তিন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার

১০

আ.লীগ যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, ইতিহাসে তা বিরল : প্রধান উপদেষ্টা

১১

জকসু নির্বাচন : ২৮ কেন্দ্রের ফলাফলে ছাত্রদল এগিয়ে

১২

কুয়েতে তিন দিনব্যাপী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা নিবেদন

১৩

নির্বাচনে উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ

১৪

শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

১৫

শিক্ষক সম্পৃক্ততায় ভর্তি প্রক্রিয়ার মানোন্নয়নে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে সেমিনার

১৬

বাংলাদেশে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নজর পাকিস্তানের

১৭

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

১৮

জামায়াত আমিরকে সাক্ষাতের অনুরোধ করে ভারতের দূতাবাস, ডা. তাহেরের দাবি

১৯

সম্প্রীতির বন্ধন গড়তেই শরীয়তপুরে পাঠিয়েছেন তারেক রহমান : মিয়া নুরুদ্দিন অপু

২০
X