পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত: আয়াত ৫৬)। আল্লাহর ইবাদত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি তাঁকে স্বরণ করা।
সৃষ্টিকর্তার ইবাদতের অন্যতম মাধ্যেম জিকির। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো এবং সকাল সন্ধ্যায় তার পবিত্রতা ঘোষণা করো।’ (সুরা আহজাব: ৪১-৪২)।
আল্লাহর আদেশ-নিষেধ বাস্তবায়ন করাও আল্লাহর জিকির। আল্লাহতাআলা কোরআনুল কারিমে ৪০ বার তাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করো। ’
সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্বরণের অর্থই হলো- ধ্যান-জ্ঞানে, উঠতে-বসতে, নিদ্রায়-জাগরণে, সকাল-সন্ধ্যা, দিন-রাতে, ঘরে-বাইরে আল্লাহকে ডাকার নাম-ই হচ্ছে জিকির।
জিকিরের মাধ্যেমে মনের শান্তি ও আত্মা তৃপ্তি লাভ করে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিন (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী) তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; আর জেনে রেখ– আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়।’ (সুরা রা’দ, আয়াত নং ২৮)।
মুমিন আত্মায় প্রশান্তি পেতে নিরিবিলি পরিবেশে চুপচাপ আল্লাহর জিকির করতে হবে। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ (জিকির) করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; অকৃতজ্ঞ হইও না’ (সুরা বাক্বারা, আয়াত নং ১৫২)।
কোরআনে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করার কথা বলা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা-গবেষণা করে আসমান-জমিন সৃষ্টি বিষয়ে (তারা বলে) হে পরওয়ারদিগার! এসব নিয়ে অনর্থক সৃষ্টি করেননি।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯১)।
জিকিরের ফজিলত সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করে আর যে করে না তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (বোখারি শরিফ, হাদিস নং ৬০৪৪।
জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া সহজ হবে। আল্লাহকে পেয়ে গেলে কবর, হাশর, পুলসিরাতের পথ সহজেই পার হওয়া যাবে। হাসতে হাসতে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত। এ যা মুমিন মুসলমানের জন্য নিয়ে এসেছে অফুরন্ত সুযোগ।
মন্তব্য করুন