কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০২:২৫ পিএম
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আনসারদের কথা-কাজের ধরনই প্রকাশ করছিল উদ্দেশ্য ভিন্ন : সারজিস 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। পুরোনো ছবি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। পুরোনো ছবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, আনসারদের কথা ও কাজের ধরনই প্রকাশ করছিল তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বিগত ১ সপ্তাহ ধরে ঢাকার সরকারি ও প্রাইভেট অন্তত ২০টির অধিক হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে আমরা আমাদের আহত ভাইদের দেখেছি। ডাক্তার, রোগী, স্টাফদের সঙ্গে কথা বলেছি। এই দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভিতর ও বাইরের নানা গল্প জেনেছি। সেগুলো আমরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে জানাতে চাই। তিনি আমাদের কথাগুলো শুনতে আমাদের ডাকেন।

আবার আমাদের ত্রাণ নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়া ট্রাকগুলো কিংবা যে গাড়িগুলোতে ত্রাণ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্যাম্পাসে আসছিল সেগুলোও ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারছিল না। তাছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার নানা প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে কল ম্যাসেজ আসছিল ত্রাণের জন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, কার্যক্রম ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে যাই।

এই দুই বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাওয়ার সময় আমরা সচিবালয়ের চারপাশের রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ করে আনসারদের আন্দোলন দেখতে পাই। পরে এ বিষয়টিও আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জানাই ৷ আমরা জানতে পারি আমাদের পূর্বেই আমাদের অন্য দুই উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানান।

পরে আমাদের দুই উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ তাদের সঙ্গে কথা বলে তখনই আলোচনার আহ্বান জানান এবং ৭ সদস্যের একটি টিম নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ একাধিকবার আলোচনায় বসেন। তাদের অনেক দাবি মেনে নেওয়া হয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে ধৈর্য ধরে যৌক্তিক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু একটা গোষ্ঠী এসব আলোচনা মানতে চাচ্ছিল না। তাদের কথা ও কাজের ধরনই প্রকাশ করছিল তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। না হলে সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আলোচনার পরও সচিবালয়ে সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখার যৌক্তিকতা কি? অথচ তখন তাদের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের ভিতরেই ছিল।

যখন দেশের ২ বিভাগের প্রায় ১০ জেলায় লাখ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত তখন সেখানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা না করে রাষ্ট্রকে এভাবে অস্থিতিশীল করার কারণ কি ? আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করতে চাই- পুলিশ কবে পুরোদমে মাঠে নামবে? সচিবালয়ে নিরাপত্তার এই অবস্থা কেন? ছাত্র-জনতাকে কেন যেতে হবে? আমার ভাইদের উপর গুলি কেন চললো? এই আর্মস আনসার পেল কোথায়?

পরিশেষে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবো-

১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার তো মুখ বুজে অনেক সহ্য করেছেন। এবার রাষ্ট্র গঠনের জন্য অন্তত কয়েক মাস ধৈর্য ধরুন। একটা সিস্টেম কয়েক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগত জায়গা থেকে পরিবর্তন হোন, পরামর্শ দিন, ধৈর্য ধরুন- অতঃপর প্রশ্ন করুন। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়বোই ইনশাআল্লাহ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুলের আপিলের শুনানি পেছাল

বিএনপির আরও ২ নেতা বহিষ্কার

আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি

আমি প্রেম করছি: বাঁধন

ফিলিপাইনে ফেরিডুবির ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৮

ঢাকা-১৮ আসনে ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর ওপর হামলা, এনসিপির নিন্দা

নৌকা থাকলে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজ করত : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্রে ৮ আরোহী নিয়ে ব্যক্তিগত জেট বিমান বিধ্বস্ত

ভারী খাবারের পর মিষ্টি নাকি টক দই ভালো

‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পেলেন প্রসেনজিৎ-মাধবন

১০

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে : তুলি

১১

৪ পুলিশ সদস্যের সাজায় অসন্তুষ্ট প্রসিকিউশন, আপিলের সিদ্ধান্ত

১২

মোংলায় ৩ শতাধিক হিন্দু-খ্রিস্টানের বিএনপিতে যোগদান

১৩

সাত বছরের সাবিহা বাঁচতে চায়

১৪

মক্কা-মদিনায় ইতিকাফের জন্য মানতে হবে নতুন নিয়ম

১৫

আগুনে পুড়ে ছাই ৭ দোকান

১৬

মারা গেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি

১৭

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরের সংস্কার নিয়ে যা জানা গেল

১৮

ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুরের মৃত্যুদণ্ড

১৯

অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ শিশু তামিমের

২০
X