রাজন ভট্টাচার্য
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৭ এএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রাক্ষস গিলছে সোমেশ্বরী

জেগেছে ধু-ধু বালুচর
রাক্ষস গিলছে সোমেশ্বরী

ভালো নেই সোমেশ্বরী। রাতদিন বুক তার ছিন্নভিন্ন করছে হাজারো ড্রেজার। এক যুগ ধরে চলতে থাকা এই যজ্ঞে বদলে গেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সীমান্তঘেঁষা লাল বালুর মায়াবী সুন্দর এই নদীর গতিপথ। কোথাও কোথাও জেগেছে ধু-ধু বালুচর। হারিয়ে গেছে জীববৈচিত্র্য। বিলুপ্তির তালিকায় এখানকার অন্যতম বিশেষত্ব মহাশোল মাছ। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও পরিবেশ ও নদীর কথা না ভেবে চলছে সোমেশ্বরী হত্যার সব আয়োজন।

জানা গেছে, এই নদী থেকে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন শুরু হয় ২০১২ সালে। বর্তমানে শুধু কামারখালী থেকে বহেরাতলী পর্যন্ত এক হাজার ড্রেজার মেশিন ও প্রায় সাত হাজার শ্রমিক আছে। বালুর কারণে নদী পারাপারের অংশ ক্ষীণ হয়ে আসছে দিন দিন। এক সময়ের প্রমত্ত এই নদীতে শুকনো মৌসুমে কোথাও কোথাও জল থাকে না। বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য, দখল আর দূষণে মৃত্যুর প্রহর গুনছে প্রকৃতির এই সন্তান। এক সময়ের প্রমত্ত সোমেশ্বরী এখন যেন এক মরা খাল।

স্থানীয়রা বলছেন, এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বালু বাণিজ্যের বার্ষিক আকার প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। নদী ধ্বংসের এই উৎসবে শরিক হয়েছেন শতাধিক রাঘববোয়াল। তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ নানা ক্ষেত্রের প্রভাবশালীরা রয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেও সোমেশ্বরীর বালু বাণিজ্যে যোগ দিয়েছেন অনেকেই। অনেকের পকেটেই চলে যাচ্ছে ‘সর্বদলীয়’ এই বালু বাণিজ্যের ভাগ। সব মিলিয়ে ব্যক্তিলাভের জন্য পরিকল্পিতভাবে সোমেশ্বরীকে হত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী নদীগুলোর একটি সোমেশ্বরী। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার, গড় প্রশস্ততা ১১৪ মিটার। পাহাড়ের বুক চিড়ে বেরিয়ে আসা নদীটি পর্যটকদের কাছে অসাধারণ সৌন্দর্যের উৎস। অথচ দীর্ঘদিন বন্ধ আছে নৌ যোগাযোগ। এই নদীর বুক চিড়ে পণ্য পরিবহনও এখন ইতিহাস।

২০০৫-২০১৫ সময়কালে সোমেশ্বরী নদীর জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করে বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিভাগ। ওই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সোমেশ্বরী থেকে ২০০৬ সালে পাওয়া গিয়েছিল ৯৮ প্রজাতির মাছ। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা মাত্র ৫০টিতে দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে মাছের সংখ্যা ২৯-এ এসে দাঁড়িয়েছে বলে গবেষকরা জানান।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯ অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু, পাথর ও কয়লা উত্তোলন করার ফলে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ নদীতে জেগে ওঠা চর নদীর প্রবাহ বন্ধ করছে। নদীটি ভরাটের ফলে নাব্য বিলুপ্ত হচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীরা নদীর তীরে বালু জমিয়ে তীরভূমি দখল করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য বালুমহাল ব্যবস্থাপনা বিধি ও বালুমহাল আইন-২০১০ বাস্তবায়নের জন্য নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় নদী রক্ষা কমিশন।

২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত নদী রক্ষা কমিশনের নদীভিত্তিক অবৈধ দখলদারের তালিকায় সোমেশ্বরীর দুর্গাপুর, পূর্ব কোনাপাড়া, পশ্চিম কোনাপাড়া, খুজিউড়া, বিজয়পুর, ডাকুমারা, কুল্লাগড়া, রামনগর, গাওকান্দিয়া, উত্তর শংকরপুর মৌজার নাম উল্লেখ রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই সোমেশ্বরী নদীর বালুমহাল ইজারা এবং বালু উত্তোলন বিষয়ে হাইকোর্টের ৫৩৩২/২০১৫ নং রিট প্রতিপালনের জন্য নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে। এই মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সোমেশ্বরী নদীর বালুমহালগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। এরপর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমেশ্বরী নদীতে পাঁচটি বালুমহাল রয়েছে। গত বছর ১ নম্বর, ২ নম্বর, ৪ নম্বর ও ৫ নম্বর বালুঘাট ইজারা নিয়েছেন নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী। রুহী এন্টারপ্রাইজের নামে এই চারটি ঘাট প্রায় ৭৫ কোটি টাকায় ইজারা নেন তিনি। আর ৩ নম্বর বালুমহালটি ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় ইজারা নেন বিরিশিরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়মনীতি না মেনে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনেরও কোনো মাথাব্যথা নেই। নদীতে হাজারো খননযন্ত্র (ড্রেজার) বসিয়ে বিকট শব্দে বালু তোলা হচ্ছে দিন-রাত।

জানতে চাইলে মোশতাক আহমেদ রুহী কালবেলাকে বলেন, ‘শত কোটি টাকা ব্যয় করে ঘাট লিজ নিয়েছি। দুর্গাপুরের জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র চার কিলোমিটার অংশে বালুচর পড়েছে। মোট নদীর দৈর্ঘ্য ২৫ কিলোমিটার। সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে বালু উত্তোলন হচ্ছে।’

বালু তোলা নিয়ে সরকারবিরোধীরা অপপ্রচার করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বেলার পক্ষ থেকে আমার কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল। না দেওয়ার তারা নানা কথা বলে দুষ্টামি শুরু করেছে।’

সরকারের নির্বাহী আদেশে বালু উত্তোলন করার হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই বালু ছাড়া দেশে উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজ হবে না।’

কী ছিল ইজারার শর্তে:

সোমেশ্বরী নদীর বালুমহাল ইজারার শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারা অনুসারে পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা যাবে না। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে হবে। নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্য, জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হলে বা হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বালু উত্তোলন করা যাবে না।

বাস্তবে দেখা গেছে, ইজারাদাররা কোনো শর্তেরই তোয়াক্কা করছেন না। বালুমহালের পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে নদীর মধ্যে দিনরাত হাজারখানেক ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। সঙ্গে পাথর ও কয়লা উঠছে দেদার। বালুখেকোরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে সড়ক, সেতু ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সোমেশ্বরী নদী থেকে প্রতিদিন ছয় শতাধিক বড় ট্রাকে বালু বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিটি বড় ট্রাকে বালু ওঠে ৫২০ থেকে ৫৮০ ঘনফুট। এ ছাড়া দিনে গড়ে ৩০০ মিনিট্রাক ও লরিতে বালু পরিবহন করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এই নদী থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ঘনফুট বালু ওঠে।

ড্রেজার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ছয় সিলিন্ডার বা চার সিলিন্ডারের বাংলা ড্রেজার দিয়ে তারা বালু তোলেন। কাজল নামক একজন ড্রেজারচালক বলেন, ‘এসব মেশিন দিয়ে নদীর ৫০-৮০ ফুট গভীর থেকে বালু ও পাথর একসঙ্গে ওঠে। ইচ্ছামতো বালু তোলায় নদীর বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, জিরো পয়েন্ট থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি নদীতে চর পড়েছে। এখানে সুইং ড্রেজার যেতে পারে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘নিয়ম হলো, বালুমহাল থেকে কতটা বালু কাটা হবে, তা সমীক্ষা করে নিতে হবে।’

দুই ধরনের সমীক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর নদী ভাঙন রোধে অ্যালাইনমেন্ট প্রস্তুত করতে হবে। বালু কোথায় ফেলা হবে তাও ঠিক করতে হবে। যেন বালুর কারণে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়।’

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নদী থেকে বালু উত্তোলনে তিন ধরনের মেশিন স্বীকৃত। এর মধ্যে নদীতে সমভাবে সুইং করে তলদেশে সুষম খননের জন্য ‘কাটার সাকশন ড্রেজার’ অথবা ‘এক্সক্যাভেটর’ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সোমেশ্বরীতে বালু তোলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পাম্প ড্রেজার। এগুলো এক জায়গায় গর্ত করে বালু তোলে। ফলে চারপাশ থেকে ভেঙে পড়ে। এসব ড্রেজার ব্যবহার নদীর পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বালুমহাল আইনে এসব ড্রেজারের ব্যবহার নিষিদ্ধ।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো অবস্থাতেই বালু ছাড়া মাটি বা অন্য কিছু উত্তোলন করা যাবে না। কিন্তু সোমেশ্বরী নদী থেকে বালুর সঙ্গে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে বালুর ট্রাকের সঙ্গে এসব পাথর সরানো হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সোমেশ্বরী রক্ষা আন্দোলনের সংগঠক আতিক খান কালবেলাকে বলেন, ‘নদীতে বালুমহাল ইজারাদাররা বরাবরই বেপরোয়া। তারা আইনের তোয়াক্কা না করে ও ইজারা নীতিমালাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে। এতে নদীতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষায় এসব গর্তের কারণে নদীভাঙনসহ দুর্ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, ‘নদী থেকে যেসব যন্ত্র দিয়ে এবং যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের তৎপরতায় যারা যুক্ত, তাদের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। যে কারণে সরকারি সংস্থাগুলোর সামনে বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের নদী হত্যা চলতে পারছে।’

এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশবাদীরা বলছেন, যদি সোমেশ্বরীকে বাঁচাতে হয়, একে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে অন্তত পাঁচ বছর বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করতে হবে। নদীতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা ছাড়া কোনোভাবেই বালুমহাল হিসেবে ব্যবস্থাপনা করতে দেওয়া যাবে না। পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন না হলে, দ্রুতই মরা খালে পরিণত হবে সোমেশ্বরী। ইজারা দেওয়ার পর জেলা পর্যায়ে কমিটি মনিটরিং না করলে বাংলা ড্রেজারের ব্যবহার বন্ধ হবে না বলেও মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কালবেলাকে বলেন, ‘বালুমহাল ইজারা দেওয়ার নামে সোমেশ্বরী নদী হত্যা করা হয়েছে। এখন আর নদী বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। নদীটিকে বালুমহালে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। নদীর বুকে শত শত অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ নদীতে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তাতে রাষ্ট্রীয় সকল সংস্থার প্রথম দায়িত্ব হলো নদীর প্রাণ ও সুস্থ প্রবাহ ফিরিয়ে আনা। এই নদীর সঙ্গে শুধু বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক ও ইজারাদারদের স্বার্থ জড়িত তা নয়, ওই অঞ্চলের লাখো মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সোমেশ্বরীর ওপর নির্ভরশীল।’

এই নদীর বিখ্যাত মহাশোল মাছ বিলুপ্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে এবং নদীর সংযোগে সৃষ্ট বাধা দূর করা না হলে এসব মাছ আর ফিরে আসবে না।’

আপাতত ইজার প্রথা রহিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ নদী দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এই খাত থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। শুধু বালু ইজারাদারদের কাছ থেকেই যে সরকার রাজস্ব পায়, তা নয়। সঠিক পরিকল্পনা করা হলে পর্যটন থেকে আরও বেশি আয় করা সম্ভব।

স্থানীয়রা বলছেন, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু এখন তাদের দুঃখের বড় কারণ। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করলেও কাজ হচ্ছে না। সোমেশ্বরী নদীর বালুমহালের ইজারা বাতিল চেয়ে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করেছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলা। উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সোমেশ্বরী নদীর বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে। তার মধ্যে বালু উত্তোলনে যথাযথ নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও নদী রক্ষায় বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। উল্টো নদী ঘিরে চলছে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড।

দুর্গাপুরের আঞ্চলিক গবেষক নূরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘আগের মতোই নদীর বুক থেকে বালু তোলা হচ্ছে। নদী ধ্বংসের পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

বেলার আইনজীবী এস হাসানুল বান্না কালবেলাকে বলেন, ‘সোমেশ্বরী রক্ষায় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাপ্লিমেন্টারি রুল ও নির্দেশনার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্ত করা হয়েছে।’

জানা গেছে, নাব্য হারানো, পণ্যবাহী ট্রাকের আনাগোনায় সীমান্ত ও পাহাড় অধ্যুষিত এলাকাটির পর্যটন সম্ভাবনাও ভেস্তে যেতে বসেছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা হোটেল, মোটেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন দুর্গাপুর উপজেলা সভাপতি অজয় কুমার সাহা কালবেলাকে বলেন, ‘এতকিছুর পরও সোমেশ্বরী রক্ষায় উদ্যোগ নেই। নদীটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় পুরোপুরি রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়।’

জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান কালবেলাকে বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে অনুমোদনহীন বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় নদীটি অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। পরিবেশের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হচ্ছে।’

প্রতিদিন ২১ লাখ ঘনফুট বালু ও পাথর তোলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুসারে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করে সুইং ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা উচিত। আমরা বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুরো নদীর ওপর সমীক্ষা করে প্রকল্প তৈরি করছি। নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাব পানি উন্নয়ন বোর্ড হয়ে মন্ত্রণালয়ে যাবে।’

ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রস্তাব চূড়ান্ত হতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোনা জেলার সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ কালবেলাকে বলেন, ‘নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। নদী রক্ষায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে করণীয় উল্লেখ করে প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুন নাহারের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে স্নাতক পাসে চাকরি

মেসির সেই ন্যাপকিন কত দামে বিক্রি?

হাইকোর্টের আদেশ সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীর নামে থাকা স্কুলের নাম বহাল

ব্র্যাক ব্যাংকে অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার পদে নিয়োগ

আজ ঢাকার যেসব এলাকায় গ্যাস কম থাকবে

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

চাঁদপুরে একদিনেই মারা গেলেন ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা

১৮ মে : আজকের নামাজের সময়সূচি

১০

হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

১১

মিছিলে গিয়ে শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু

১২

মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানচালকের

১৩

সকাল ৯টার মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

১৪

শেরপুরে নির্বাচনী পথসভা থেকে ৩ ডেগ বিরিয়ানি জব্দ

১৫

রিকশা চালককে কুকুরের সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনায় ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৬

ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি সাত্তার, সম্পাদক দেলোয়ার

১৭

জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গেই আমি কাজ করব : আইনমন্ত্রী

১৮

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি থেকে ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন

১৯

ফের আচরণবিধি লঙ্ঘন, ৭ ডেগ খিচুরি জব্দ

২০
X