সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাজুড়ে গ্রীষ্মের শুরু থেকে বিভিন্ন বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নামছে। এতে নলকূপে পানি না উঠায় শত শত গ্রামে হাজার হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি চলতি বোরো আবাদে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত সেচ যন্ত্রে পানি কম উঠছে। ফলে জমিতে সেচ দিতে যেমন বেশি সময় লাগছে, তেমনি কৃষকের খরচও বাড়ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের তাড়াশ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার আগে থেকেই চলনবিল এলাকার বেশিরভাগ নলকূপে প্রয়োজনীয় খাবার পানি মিলছে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতে প্রয়োজনীয় পানি না উঠায় বর্তমানে পানি সংগ্রহে গ্রামের লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অনেকেই বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট মোকাবিলায় বাড়ির নলকূপ উঠিয়ে অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় স্থানান্তর করছেন এবং কৃষকরা সংকট মোকাবিলায় বাধ্য হয়ে রাতে সেচ ইঞ্জিন চালিয়ে পানি দিয়ে ধান রক্ষার চেষ্টা করছেন। গ্রামের অনেক নারীই পানযোগ্য পানি সংগ্রহের জন্য বাড়ির নিকটবর্তী বোরো স্কিমের গভীর-অগভীর ইঞ্জিনচালিত শ্যালো মেশিন থেকে সকাল-বিকেল কলসি, বালতি, জারকিং নিয়ে পানি সংগ্রহ করেন।
উপজেলার তালম ইউনিয়নের পাড়িল গ্রামের গৃহবধূ ফেরেনা খাতুন বলেন, বাড়ির নলকূপে ঠিকমতো পানি উঠছে না। এক বালতি পানি বের করতে নলকূপ চাপতে চাপতে হয়রান হয়ে যাই। তাই বাড়ির নলকূপটি উঠিয়ে অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় বসিয়েছি। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না।
একই গ্রামের কৃষক মতিবর হোসেন জানান, প্রায় এক মাস ধরে আমাদের বাড়ির নলকূপে পানি কম উঠছে। এতে নলকূপ চাপতে চাপতে হয়রান হয়ে যাচ্ছি। তাই বাড়ির পানির চাহিদা পূরণে কষ্ট হওয়ায় সে নলকূপটি উঠিয়ে বাড়ির নিচে অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় স্থানান্তর করেছি। কিন্তু তাতেও তেমন কাজ হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই পান যোগ্য পানি সংগ্রহে বাড়ির নিকটবর্তী বোরো স্কিমের অগভীর শ্যালো মেশিনে যেতে হচ্ছে। আর এ অবস্থা শুধু আমাদের নয়, আশপাশের বাড়িতেও।
উপজেলার কুন্দইল গ্রামের কৃষক জুলফিকার আলী জানান, শুধু খাবার পানিই নয়, গৃহস্থালি কাজকর্মেও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে চলনবিল এলাকায়। চলনবিলে বিভিন্ন এলাকায় শত শত পুকুর থাকলেও বেশিরভাগ পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে পানি দূষিত করা হচ্ছে। ফলে ওই সব পুকুরে গোসল করা, থালাবাসন মাজা, কাপড় ধোয়া, গরু-বাছুর সাঁতরানো যাচ্ছে না। আবার অনেকেই পুকুরে মাছ চাষ করায় তাতে নামতেও দিচ্ছে না। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলআমিন বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা। মূলত একেক জায়গার পানির স্তর একেক রকম। তা ছাড়া চলনবিল অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে পানির ব্যাপক ব্যবহারসহ নানা কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এ কারণে নলকূপ ও গভীর-অগভীর সেচযন্ত্রগুলোতে পর্যাপ্ত পানি ওঠে না। তাই বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। তবে এ অবস্থা সাময়িক। কেননা বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাসে বৃষ্টি শুরু হলেই আপনা-আপনি পানির স্তর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।