কোটা সংস্কার আন্দোলনে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা এফআইআরে যাদের সাক্ষী করা হয়েছিল, সেই পুলিশ সদস্যের মধ্যে উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘গত ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলাপরিপন্থি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের বাইরে কাজ এবং কর্তব্য পালনে অবহেলার কারণে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এ ঘটনায় পরদিন তাজহাট থানার এসআই ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভুষণ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, ‘বেআইনি জনতা সাধারণ/মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে গুরুতর জখম, চুরি, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ ছাত্রকে হত্যা করে অপরাধ করা হয়েছে।’ মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী বা এফআইআরে পুলিশ দাবি করেছে, আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি।
এফআইআরে বলা হয়, ‘পুলিশ সদস্যদের মারধর করে তাদের গুরুতর আহত করে ও সড়ক অবরোধে থাকা উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের মধ্য হতে বেশ কিছু ছাত্রবেশী সুবিধাভোগী রাষ্ট্রবিরোধী আন্দোলনরত দুর্বৃত্তগণ বিভিন্ন দিক থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ও তাদের নিকটে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র হতে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশও এপিসি গাড়ির মধ্য হতে কং/১১৮৬ সোহেল তার নামীয় সরকারি ইস্যুকৃত শটগান হইতে ১৬৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ফায়ার করে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় পড়ে যেতে দেখা যায়। তখন তার সহপাঠীরা তাকে ধরাধরি করে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত ছাত্রের নাম আবু সাইদ (২৩)।’
এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে রাখা হয় আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুলি করা পুলিশ সদস্যের নাম ইউনুস বলা হলেও সেটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর আর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সায়েকুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। আমরা ১৭ তারিখে আমির হোসেন এবং ২৮ তারিখে কনস্টেবল সুজনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করি। কমিটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দেন। তাতে দেখা যায়, তাদের (দুই পুলিশ সদস্য) দায়িত্ব অবহেলা, অপেশাদার আচরণ, শৃঙ্খলাবহির্ভূত, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের বাইরে গিয়ে তারা কাজ করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করে। ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। তদন্তে যার বিরুদ্ধে যতটুকু অপরাধ আসবে, ততটুকুই ব্যবস্থা আমরা নেব।