কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘এসকে ট্রিমসের সঙ্গে মতিউরের কোনো সম্পর্ক নেই’ 

এসকে ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম হাওলাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছবি : সংগৃহীত
এসকে ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম হাওলাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ছবি : সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে (এসকে ট্রিমসে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তার পরিবারের কেউ প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদে নেই এবং তাদের মালিকানাও নেই।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) এসকে ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ কাইয়ুম হাওলাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এলসি বন্ধ থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। এতে করে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করা হাজার হাজার বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির উদ্যেক্তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে কোম্পানিটির সাথে সাবেক এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মালিকানা রয়েছে এই ধরনের অপ্রচারের শিকার হওয়ায় দুদক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কোম্পানির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছিলো। এতে করে কোম্পানিটির দেড় হাজার শ্রমিক, কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির উদ্যেক্তারা বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করায় প্রতিষ্ঠানটির এলসি বন্ধ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদেশীদের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়। এতে করে কোম্পানিটিতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা লোকসানে পড়ে।

তিনি বলেন, এসকে ট্রিমসের শেয়ারহোল্ডার ৬ হাজার ৭৯৩ জন। কোম্পানিটি শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এ কোম্পানিটি এনবিআর-এর সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের মালিকানা রয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে যা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ইচ্ছাকৃত কাজ। যাতে করে কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাব জব্দের মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে করে ক্রয়াদেশ বাতিল ও কারখানা বন্ধ করায় লোকসানে পড়েছে শেয়ারহোল্ডাররা।

তিনি বলেন, গত ২৫ জুন এসকে ট্রিমসের ওয়ান ব্যাংকে পরিচালনা করা হিসাব এবং ১১ জুলাই ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়। যাতে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারীর এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। যা গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকরও করা হয়। তবে এরপরে উচ্চ-আদালত ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংক হিসাব চালু হয়েছে। যাতে করে গত ২১ সেপ্টেম্বর কারখানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও ক্রয়াদেশ বাতিলকে কেন্দ্র করে এসকে ট্রিমসের শেয়ারহোল্ডারদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যা এখনো চলমান। তবে আমাদের ব্যাংক লেনদেন ঠিকমতো চালু থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরিভাবে ঘুরে দাড়াবে এবং লাভজনক অবস্থানে চলে যাবে। এই ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা তথা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

জানা গেছে, গত ১১ জুলাই এসকে ট্রিমসের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার খবরে শেয়ারের পতন শুরু হয়। গত ১১ জুলাই এসকে ট্রিমসের শেয়ার দর ছিল ২৫.৫০ টাকা। যে শেয়ারটি এখন ১৪.৩০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার খবর প্রকাশের পরে প্রতিটি শেয়ারের দর কমেছে ১১.২০ টাকা বা ৪৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটির সব শেয়ারের দর কমেছে ৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাড়ি বেচে দিলেন সোনু সুদ

বাইচের নৌকা ডুবে নিহত ২

মার্কিন আদালতে ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ ঘোষিত

বায়ুদূষণে চ্যাম্পিয়ন কামপালা, ঢাকার অবস্থান কত

সব সময় ক্লান্ত লাগার ৫ সাধারণ কারণ

পরীক্ষামূলকভাবে আজ শুরু স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ আজ

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরছেন কঙ্গনা

১০

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে : নীরব

১১

ওরিকে স্বামী বললেন জাহ্নবী

১২

ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত কিছু মেডিকেল মিথ

১৩

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১১

১৪

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ও কাদেরকে গ্রেপ্তার দাবি লায়ন ফারুকের

১৫

নাফ নদীতে বেপরোয়া আরাকান আর্মি, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

১৬

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৩২ বস্তা টাকা

১৭

এক মঞ্চে কিম, পুতিন ও শি জিনপিং

১৮

ভিন্ন রূপে হানিয়া

১৯

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

২০
X