আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাগরে তলিয়ে গেছে কবরস্থান, ভাঙছে মসজিদ

ভাঙনের মুখে মসজিদ। ছবি : কালবেলা
ভাঙনের মুখে মসজিদ। ছবি : কালবেলা

অনেক আগেই সাগরে তলিয়ে গেছে কবরস্থান। ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র প্রভাবে আটকে পড়া কয়লাবাহী দুটি জাহাজের পানির ধাক্কায় এবার ভাঙছে মসজিদ। স্রোতের গতিপথ বদলে পানির ঢেউয়ে ছিঁড়ে গেছে জিও ব্যাগও। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানির ধাক্কায় হুমকিতে পড়েছে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ পার্শ্ববর্তী একটি কবরস্থান। কবরস্থান ভেঙে উঠে এলো পুরোনো লাশের কঙ্কাল।

এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের উঠান মাঝির ঘাট এলাকায়।

বর্তমানে গহিরা সমুদ্র উপকূলের এক কিলোমিটারেরও বেশি এলাকার বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন রোধে অতিদ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

সরেজমিন দেখা যায়, জাহাজ দুটি মসজিদ ঘেঁষা কবরস্থানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। সাগরের ঢেউয়ে মসজিদের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের জিও ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে উঠেছে পাশের শতবছরের পুরোনো কবরস্থানে মানুষের হাড়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপকূলবাসীর। পরে লাশের হাড়গুলো অন্য একটি কবরস্থানে দাফন করা হয় বলেও জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’ পরবর্তী ঝোড়ো হাওয়ায় গহিরা উপকূল এলাকা উঠান মাঝির ঘাটে মারমেইড-৩ নামের একটি বার্জ ও নাভিমার-৩ টাগবোট জাহাজ দুটি আটকে পড়ার এক মাস পার হলেও এখনো সেগুলো সরানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজ দুটি গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে জব্দ রয়েছে। জাহাজ দুটি বঙ্গোপসাগরে ভাসমান অবস্থায় জোয়ার-ভাটার স্রোতে কখনো কুতুবদিয়া, কখনো মগনামাসহ বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ভেসে বেড়ায়। সর্বশেষ গত মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র আঘাতে গহিরা উঠান মাঝির ঘাট উপকূলে আটকে পড়ে। আর এতে কপাল পুড়েছে স্থানীয়দের। যার প্রভাবে ভাঙনের তীব্রতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজ দুটির পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উঠান মাঝির ঘাট গাউছিয়া হিজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন হেফজখানা ও এতিমখানা পরিচালক আজগর আলী বলেন, ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে সব কিছু বিলীন হয়ে গেলেও এই মসজিদ আর কবরস্থানটি ছিল। প্রায় ৩৪ বছর পর জাহাজের কারণে মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান সম্পূর্ণ বিলীনের পথে। পানির ঢেউয়ে কবর ভেঙে উঠে গেছে পুরোনো দুটি লাশের কঙ্কাল। পরে পার্শ্ববর্তী একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মসজিদ কমিটির সিনিয়র সদস্য নুরুল আলম বলেন, জাহাজ দুটি আটকানোর এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেউ। দ্রুত জাহাজ সরানোর ব্যবস্থা না নিলে সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে মসজিদ, এতিমখানা ও কবরস্থান সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহীদ বলেন, আটকে পড়া জাহাজ দুটির কারণে স্থানীয় মসজিদ, কবরস্থান ও বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব রক্ষায় আমরা জিও ব্যাগ দিয়েছি, জাহাজ দুটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রতিবার ঘরের মেঝে মোছার পরও কীভাবে ধরে রাখবেন সুগন্ধ

আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া

সাদ্দামের মতো পরিণতি কোনো দলের কর্মীর না হোক : রুমিন ফারহানা

চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায় আজ

আজ থেকে রেকর্ড দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ

জনগণই হবে ভোটের পাহারাদার : তারেক রহমান

মির্জা ফখরুলের জন্মদিন আজ

সাড়ে তিনশ মানুষ নিয়ে ফিলিপাইনে ফেরি ডুবি

বাস–অটোরিকশা সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ নিহত ৩

ইথিওপিয়ায় এক প্রকল্পেই ১১ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি

১০

আজ টানা ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১১

হাসনাতকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠ ছাড়লেন আরেক প্রার্থী 

১২

খালেদা জিয়ার সম্মানে ধানের শীষকে জনগণ বিজয়ী করবে : রহমাতুল্লাহ

১৩

আজ টানা ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৪

যেসব কারণে অফিসে ব্যক্তিগত কথা বলবেন না

১৫

সোমবার রাজধানীতে যেসব মার্কেট বন্ধ

১৬

ধানের শীষকে বিজয়ী করে ষড়যন্ত্রকারীদের জবাব দেব : নজরুল ইসলাম

১৭

সফল দিনের শুরু করতে যেসব কাজ করবেন না

১৮

এক্সিকিউটিভ পদে নিয়োগ দিচ্ছে রূপায়ন গ্রুপ

১৯

২৬ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

২০
X