শীত মৌসুম আসলেই অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠে ইটভাটা। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় এসব ইটভাটা। এসব ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন গাছের কাঠ। প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার মণ কাঠ পোড়ানো হয়। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ছড়াচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে,তেমনি নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি, উজাড় হচ্ছে গাছপালা, ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতি।
তবে সচেতন মহল বলছে প্রশাসন, প্ররিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো অভিযানও চোখে পড়ে না। ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপট ছাড়াও বিশেল ব্যবস্থায় এসব ইটভাটা চলছে বলে মন্তব্য করছেন তারা।
তথ্য মতে, মহেশপুর উপজেলায় ২৫ থেকে ৩০টি ইটভাটা রয়েছে। যার একটির অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। প্রভাবশালী রাজনীতিকরা প্রশাসনের অনুমোদন না নিয়ে ক্ষমতার জোরে ইটভাটা তৈরি করছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, যেখানে সেখানে ইটভাটা তৈরি হওয়ায় আবাদি জমিগুলো নষ্ঠ হচ্ছে। একটি ইটভাটা তৈরি করতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ একর জমির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মাটির প্রয়োজন হলে এলাকার লোকজনের কাছ থেকে আবাদি জমির ওপরের এক থেকে দেড়ফুট মাটি কেটে ইট তৈরি করে। এতে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়। শুধু তাই নয় ইটভাটার নির্গত কালো ধোয়ায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট ও আবাদি জমির ফসল নষ্ঠ হয়। ইটভাটার অনুমতিপত্রের শর্তানুযায়ী কয়লা ব্যবহার করার কথা থাকলেও এসব ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠ। বিশেষ করে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ ছাড়াও বাঁশের মোথা ব্যবহারের ফলে বাঁশঝাড় উজাড় হচ্ছে।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ ও ২০০১ সনের ১৭নং অনুচ্ছেদের ৪ ও ৫ ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবাদি জমিতে কোনো ইটভাটা তৈরি করা যাবে না। এ ছাড়াও কাঠ পোড়ানো যাবে না। অথচ সকল ইটভাটায় কয়লার বদলে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসন জরিমানা আদায় করলেও ইটভাটা বন্ধ করে না। ফলে প্রভাবশালীরা প্রতি বছর নতুন নতুন ইটভাটা তৈরি করছে।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার হাবিব জানান, ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় মানুষের শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, ক্যান্সারসহ নানা রোগের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া অতিরিক্ত কার্বনডাইঅক্সাইডের কারণে ফসল ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। অনতি বিলস্বে পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনিক পদক্ষে জরুরি। এদিকে অনুমোদনবিহীন ইটভাটাগুলো চালু হলেও অদ্যাবধি প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কোনো অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতি বছর ইটভাটা মালিক পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করেন মালিক সমিতি। এ টাকা দিয়েই সব দপ্তরকে ম্যানেজ করতে হয়।
ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে কিন্তু অনুমোদন মেলেনি। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই ইটভাটাগুলো চালানো হয় বলে জানান তিনি।
ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মনতাসীর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন