পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, কাটছে মাটি

খুলনার পাইগাছায় লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটায় অবাধে চলছে কাজ। ছবি : কালবেলা
খুলনার পাইগাছায় লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটায় অবাধে চলছে কাজ। ছবি : কালবেলা

খুলনার পাইকগাছায় সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে লাইসেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই যথেচ্ছ স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, কৃষিজমি ও নদী থেকে কাটা হচ্ছে মাটি। কোনো কোনো মালিক বলছেন, জরিমানার টাকা দিলেই সবকিছুই বৈধ।

উপজেলার চাঁদখালী, গদাইপুর, রাড়ুলী ও হরিঢালীতে ১৫টি ইটভাটা কৃষিজমিতে অবস্থিত। এসবের প্রায় সবগুলোই জনবসতি এলাকা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রধান সড়ক, গ্রাম ও বনাঞ্চলের ধারের কাছে গড়ে তোলা হয়েছে। মাটি কাটা হচ্ছে আবাদি জমি থেকে। পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। অধিকাংশরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স।

ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে পরিবেশ হচ্ছে নষ্ট। নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বে ও বনাঞ্চল থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বে ভাটা স্থাপনের কথা থাকলেও অল্প দূরত্বে এসব স্থাপিত। প্রায় প্রত্যেকটি ইটভাটার পাশে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, হাটবাজার ও ব্যস্ততম সড়ক অবস্থিত।

পাইগাছায় স্থাপিত ভাটাগুলো হলো হরিঢালীর মাহবুবুর রহমান রঞ্জুর যমুনা ব্রিকস ১ ও ২, গদাইপুর মুজিবুর রহমানের ফাইভ স্টার, ফতেমা রহমানের এফএফবি, চাঁদখালীর নাজমুল হুদা মিথুনের এসএমবি, মহিউদ্দিন খানের বিএকে, বাদশার খানের খান ব্রিকস, মুনছুর গাজীর এস এম ব্রিকস, আব্দুল হালিমের স্টার ব্রিকস, আব্দুল মান্নান গাজীর বিবিএম ব্রিকস, আব্দুল জলিলের এডিবি ব্রিকস, শহাজাদা ইলিয়াসের এমএসবি ব্রিকস, সিরাজুল ইসলামের এসবিএম ব্রিকস, শফিকুল ইসলামের এমবিএম ব্রিকস, রাড়ুলী ইউনিয়নে মিনারুল ইসলাম ও ডালিম সরদারের ইটের ভাটা।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী আদালতের উদ্যোগে প্রতি বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হলেও ভাটা মালিকরা জরিমানা দিয়ে যথারীতি ভাটায় ইট পুড়িয়ে আসছে।

ভাটার মালিক বিষ্ণুপুর মিথুন জানায় জরিমানার টাকা দিলে সব বৈধ হয়ে যায়। এ কারণে সে পরিমাণ টাকা আগে থেকেই রেডি করে ভাটার কাজ শুরু করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আল-আমিন বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটা ভাটা থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৩ লক্ষাধিক জরিমানার টাকা আদায় করা হয়েছে। মাটি কেটে বিক্রি করার অপরাধে চার জনকে জেল দেওয়া হয়েছে।

ভাটা মালিক মিঠু জানান, তিন বছর যাবৎ পরিবেশের কোনো ছাড়পত্র পাইনি। লাইসেন্স নেই, তবে সরকার আমাদের কাছ থেকে আয়কর ও ভ্যাট আদায় করছে। কয়েকবার ভাটা ভেঙে দেওয়ার কথা শিকার করেছেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্যাতনকে ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে চালাচ্ছে ইসরায়েল : জাতিসংঘ কমিটি

ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা কেমন থাকবে জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

পল্লী বিকাশ কেন্দ্রে চাকরির সুযোগ

সংখ্যালঘু, পাহাড়ি ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় থাকে: প্রিন্স

আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

২৯ নভেম্বর : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

ওয়ার্ল্ড ভিশনে চাকরির সুযোগ, ৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ

বাইডেনের অটোপেন স্বাক্ষর বাতিল করলেন ট্রাম্প

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের যত খেলা

১০

এইচআর বিভাগে নিয়োগ দিচ্ছে ম্যাটাডোর বলপেন

১১

টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১২

শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১৩

২৯ নভেম্বর : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

বিএনপির দুই নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

১৫

খালেদা জিয়া কেমন আছেন, সর্বশেষ তথ্য জানালেন আসিফ নজরুল

১৬

বগুড়া বার সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সা.সম্পাদকসহ ১০ পদে বিজয়ী বিএনপি

১৭

নারায়ণগঞ্জে কারানির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা সমাবেশে মাসুদুজ্জামান

১৮

আপনার সুস্থতায় সাহস পায় বাংলাদেশ : নাছির উদ্দীন নাছির

১৯

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

২০
X