ববি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৫, ০৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৫ মে ২০২৫, ০৬:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

একদফা দাবিতে ববির প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

এক দফা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা
এক দফা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের এক দফা দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৫ মে) বেলা সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করে। পরে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এ ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, মেডিকেল, লাইব্রেরি, পাঠদান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ব্যতীত সকল প্রশাসনিক দপ্তরের তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিলে তিনিই পুনরায় কার্যক্রম শুরু করবেন। এর আগে শিক্ষার্থীরা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে ৪ দফা দাবি দেওয়া হয়। দাবি আদায় না হওয়ায় উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবির সিদ্ধান্তে নেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম ওয়াহিদুর রহমান, শহিদল ইসলাম শাহেদ, মাইনুল ইসলাম, সাংবাদিকতা বিভাগের আজমাইন সাকিব, লোকপ্রশাসন বিভাগের মোকাব্বেল শেখ, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মাসুম বিল্লাহ, মার্কেটিং বিভাগের এম ডি শিহাব, বাংলা বিভাগের আশিকুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রবিউল ইসলাম,ইতিহাস বিভাগের মোশাররফ হোসেন ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

ইংরেজি বিভাগের রাকিন খান বলেন, বিভিন্ন বিতর্ক ও নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শূচিতা শরমিন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাদের কোনো কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছে। একজন অভিভাবক কি করে যৌক্তিক আন্দোলন দমানোর জন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে? আমরা তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন চাই না। আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ চাই।

মার্কেটিং বিভাগের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এম. ডি. সিহাব বলেন, উপাচার্য ড. শূচিতা শরমিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিনির্ধারণে তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও জিডি করেছেন, যা প্রশাসনের দমন-পীড়নমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মুক্ত চিন্তা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুশাসনের পরিপন্থি। আমাদের এখন একটাই দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ।

ব্যবস্থাপনা বিভাগের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বিপ্লব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। তিনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজ না করে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে ব্যস্ত। এ ছাড়া উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা ও অপেশাদার মনোভাবের কারণে আমাদের বোন জেবুন্নেসা হক জিমি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও আর্থিক সহযোগিতা পাইনি। তিনি স্বসম্মানে পদত্যাগ না করলে আমাদের আরও বড় ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, চলমান আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন। উপাচার্য দীর্ঘ ৯ মাস দায়িত্ব পালন করার পরেও ন্যূনতম কোনো উন্নয়ন বা শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় তিনি একজন অযোগ্য উপাচার্য। আমরা এ অযোগ্য উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে দেখতে চাই না।

এদিকে রোববার (৪ মে) শিক্ষার্থী ও উপাচার্য পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবি ঘোষণা করেন।

গত ৩০ নভেম্বরও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলন থেকে সাময়িক বিরত হন একদল শিক্ষার্থী। এ ছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের প্রবেশ করে গেট ভাঙচুরের অভিযোগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ৪২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বরিশাল বন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান সাক্ষী হিসেবে উপাচার্য ড. শূচিতা শরমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনকে ‘পতিত সরকারের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করে সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদ থেকে ১৩ এপ্রিল অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিল এনসিপি

খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, ভেঙে পড়ছে সড়ক

শীতে হৃদয় সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন ও এড়িয়ে চলবেন

আসনপ্রতি প্রায় ৮০ জনের লড়াই, চবিতে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

বছরের প্রথম দিনে রাশিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রোন হামলা

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ধানমন্ডিতে দোয়া মাহফিল

ঢাকার চার ফ্লাইট নামল কলকাতায়

শীতকালে আপনার শরীর গরম রাখবে এমন ৫ খাবার

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমার ইনকাম কমেছে : হাসনাত

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে নেতাকর্মীর ঢল

১০

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

১১

 এবার নতুন চ্যালেঞ্জের পালা: সিয়াম আহমেদ

১২

নতুন বছরে বলিউডের চমক

১৩

লা লিগার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের মালিক হতে চান রামোস

১৪

দেখা নেই সূর্যের, ১০ ডিগ্রিতে নামল কুড়িগ্রামের তাপমাত্রা

১৫

জানুয়ারির ‘উলফ সুপারমুনে’র বিরল চমক দেখুন আগামীকাল

১৬

নিখোঁজের এক দিন পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

১৭

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন

১৮

নির্দেশনা অমান্য করে বিদ্যালয় খোলা, প্রধান শিক্ষক বললেন ‘আমার ভুল হয়েছে’

১৯

ঘন কুয়াশার কারণে শাহজালালের ৯টি ফ্লাইট অন্যত্র অবতরণ

২০
X