নাইম আবির
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৫, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হলে কেমন ক্ষতি হবে?

নাইম আবির। ছবি : সংগৃহীত
নাইম আবির। ছবি : সংগৃহীত

ধরুন ঢাকা বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার সময় একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলো? কেমন ক্ষতি হবে? একটা এটিআর হলেও তো ৭০-এর বেশি যাত্রী। বোয়িং, এয়ারবাসের কথা নাই বললাম। আর যেখানটায় বিধ্বস্ত হবে?

ঢাকার রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইনটা খেয়াল করেন। বড় বড় আবাসিক ভবন। হতাহতের সংখ্যা ধারণারও বাইরে চলে যাবে। তাই ঢাকায় প্রশিক্ষণ কেন এই আলাপের পাশাপাশি বিমানবন্দর ঘিরে স্কুল, আবাসিক ভবন, শপিংমল তৈরি কেন? এই আলাপটাও উঠুক। ঢাকা বিমানবন্দরের পশ্চিম ও উত্তর সীমানার ২০ মিটারের মধ্যে কমপক্ষে ২০টি ভবন আছে। যদিও নিয়ম অনুযায়ী এই ভবনগুলো থাকার কথা নয়। তবুও আছে। আরও ভবন হচ্ছে। কারা অনুমতি দিচ্ছে? বিমানবন্দর এলাকায় খোদ সিভিল অ্যাভিয়েশনই বড় বড় শপিংমল বানিয়েছে। কে দেখবে এসব? ঠিক একই প্রশ্ন কুর্মিটোলার বিমানঘাঁটির ক্ষেত্রেও? রানওয়ের অ্যাপ্রোচ লাইনেই মাইলস্টোন স্কুল কেন? কোনটা আগে হয়েছে বিমানঘাঁটি না মাইলস্টোন? কে অনুমতি দিল?

দেশের আকাশপথের ঝুঁকির আরও কিছু আলাপ করি চলুন। কক্সবাজার, সৈয়দপুর আর রাজশাহী বিমানবন্দরের ল্যান্ডিং অ্যাপ্রোচ লাইনে সারি সারি গাছ। এই তিন বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণের সময় গাছের কারণে তীব্র বাতাসের সৃষ্টি হয়। এই বাতাসে উড়োজাহাজে টার্বুলেন্স সৃষ্টি হয়। এই টার্বুলেন্স থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে যে কোনো সময়ে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল অ্যাভিয়েশনকে বিভিন্ন সময়ে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো এসব গাছ কাটতে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। গাছের ইস্যু অন্য বিমানবন্দরগুলোতেও থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে আমার বিস্তারিত জানাশোনা নেই। পেলে পোস্ট আপডেট করব।

শীতে কুয়াশার কারণে আমাদের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট ল্যান্ড করতে পারে না। কারণ আমাদের কোনো বিমানবন্দরেই আধুনিক ল্যান্ডিং সিস্টেম নেই। ঘন কুয়াশায় পাইলটের কাছে রানওয়ে ভিজিবল হয় না। তখন দরকার পড়ে আধুনিক ল্যান্ডিং সিস্টেমের। ঢাকায় আইএলএস ক্যাটাগরি ২-এর কাজ শেষ হয়েছে বলে জানি। যদিও সেটার অফিশিয়াল ঘোষণা এখনো আসেনি। তাই ঢাকার ফ্লাইটগুলোকে কনভার্ট করে পাঠায় দিতে হয় ভারত এমনকি মিয়ানমারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা ফিরে আসে। যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি এখানেও দুর্ঘটনার শঙ্কা।

বার্ড হিটিং ঢাকা বিমানবন্দরে প্রায় নিয়মিত ঘটনা। গেল মাসেও দুটো বড় বার্ড হিটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে পাখির আঘাতে ইঞ্জিনে আগুন লেগে যাওয়ায় ফের ঢাকায় ফিরে এসেছে ফ্লাইট দুটি। আর ল্যান্ড করার সময় বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকা থেকে লেজার লাইট মারে জনতা। অন্যান্য দেশে এ ধরনের লেজার লাইট মারার ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের ধরে ফেলে। আমাদের এখানে কাউকে ধরা হয়েছে কি না জানি না।

সবশেষ আলাপ, ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ। অথচ গেল বছর এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী। এখানে একটাই রানওয়ে। যে রানওয়ে শুধু যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সামলাতেই হিমশিম খায়, সেখানে মিলিটারি, ট্রেনিং, হেলিকপ্টার নিয়মিত উঠানামা করে। ঢাকার মতো ব্যস্ত একটি বিমানবন্দরে এতকিছু একসঙ্গে হতে হবে কেন? আরও ভয়ের বিষয় কী জানেন? চলতি বছরের শেষে থার্ড টার্মিনাল চালু হবে। তখন ২ কোটি যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট চলাচল করবে এই একটি রানওয়েতেই। কী হবে তখন?

লেখক : নাইম আবির, এভিয়েশন বিষয়ক সাংবাদিক

কালবেলা/এমএসকেএম
[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাড়ছে করতোয়ার পানি, আতঙ্কে আশ্রয়ণের শতাধিক পরিবার

একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ দিয়ে ১ বছরের ওমরাহ ভিসা চালু করল সৌদি আরব

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং একসঙ্গেই থাকব: প্রধানমন্ত্রী

ডিবির হাতে গ্রেপ্তার ভাইরাল সেই রুনা 

ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল, কারণ খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে দেশে ফিরল স্পেন, মাদ্রিদে লাখো মানুষের ঢল

ইউক্রেনে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

রক্ত, আতঙ্ক আর দীর্ঘশ্বাসে লেখা ২১ জুলাই: যে দিন সাভারের আকাশ ভারী হয়েছিল কান্নায়

সংশোধন নয়, সংস্কারের মধ্যে দিয়ে নতুন সংবিধানের কথা বলেছিলাম আমরা : আখতার হোসেন 

১০

নিবন্ধন পেল বাংলা পোস্ট

১১

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

১২

গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণ জানাল তিতাস

১৩

ডেঙ্গুর আর্থিক ক্ষতি বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা: ডা. মোসলেহ উদ্দীন

১৪

বাজার থেকে আরও ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

১৫

ইসলামোফোবিয়া প্রতিরোধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উদ্যোগ

১৬

ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের ৫ কারণ 

১৭

কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১৮

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কৌশল বুঝে ফেলেছে ইরান: গালিবাফ

১৯

অস্ত্রোপচারে ড্রিলের ফলা রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

২০
X