শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গাজা শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে মানুষ

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি : সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা শহর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, বোমা ও ক্ষুধার কাছে অবশেষে পরাজয় মানছেন তারা। নিজ ভূমিতে থাকার অধিকারের লড়াইয়ে ইতোমধ্যে লাখো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। বোমার আঘাতে বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে পুরো উপত্যকা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গাজা সিটিতে নতুন করে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। এর আগে রাতভর গাজায় তীব্র বোমা হামলার খবর পাওয়া যায়। ফিলিস্তিনিরা গত রাতকে ‘নরক’ এবং জীবনের ‘সবচেয়ে কঠিন’ রাতের মধ্যে একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে ইসরায়েলি ট্যাংক প্রবেশের এর প্রভাব পড়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির ওপর, তারা এখন দক্ষিণ দিকে নিরাপদ স্থানের দিকে পিছু হটছেন। অনেকের জন্য এটি প্রথমবার নয়, তারা পূর্বেও যুদ্ধের কারণে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে এবার আর অন্যদিকে নয়, অনেকে হার মেনে গাজা ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

মানুষদের কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ পুরোনো গাড়ি বা রিকশায়, কেউ গাধার গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন সামান্য কিছু জিনিসপত্র। যাত্রাপথে দেখা যাচ্ছে শিশুদের কাঁদতে কাঁদতে মায়ের আঁচল আঁকড়ে ধরা। অনেকেই বলছেন, এই শহর ছেড়ে যাওয়া তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত।

আল-রিমাল এলাকার বাসিন্দা ৩৩ বছরের আমজাদ আল-নাওয়াতি জানিয়েছেন, তার পরিবার যেকোনো সময় পালানোর জন্য প্রস্তুত। চারপাশের প্রতিবেশীরা ইতিমধ্যেই চলে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী ভাই আহমেদের ওপর বোমার শব্দ ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে। সারারাত তাকে শান্ত করতে হয়েছে।’

একইভাবে কাঠমিস্ত্রি এস্সাম শাওয়ার পরিবার গতরাতে ১২ ঘণ্টা হেঁটে দেইর আল-বালাহ পৌঁছেছেন। তাদের হাতে ছিল না কোনো বাড়তি পোশাক বা খাবার। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল বাঁচার জন্য ছুটেছি’। তার স্ত্রী আয়াত যোগ করেন, ‘যাত্রার সময় বাচ্চাদের জন্য কিছুই ছিল না। ক্ষুধা আর ক্লান্তিতে তারা পুরো পথ কেঁদেছে।’

অন্যদিকে, নার্স হানা আলমাধৌন হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছেন, তিনি তার তিন সন্তানকে সরিয়ে নিতে চাইছেন। কিন্তু পরিবহন পাওয়া যাচ্ছে না, আর যেটুকু আছে তার ভাড়া এত বেশি যে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। একটি ট্রাক ভাড়া করতে প্রায় এক হাজার ডলার লাগছে। আমি কাজের কারণে থাকতে চাই, কিন্তু সন্তানদের আগে নিরাপদ স্থানে পাঠাতেই হবে, লিখেছেন তিনি।

৩৪ বছরের মোহাম্মদ বলেন, তার কর্মস্থলের পাশের ভবনগুলো একের পর এক ধসে পড়েছে। রাস্তায় লাশ ছড়িয়ে ছিল। আকাশ থেকে ফ্লায়ার ফেলে দক্ষিণে যেতে বলা হলে তিনিও যাত্রা শুরু করেন। তিনি বলেন, এটা আমার জীবনের দ্বিতীয়বার ঘর ছাড়ার অভিজ্ঞতা। বারবার এভাবে পালাতে হচ্ছে, এটা মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টদায়ক।”

গাজা সিটির এই নতুন ইসরায়েলি স্থল অভিযান আবারও হাজারো পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

জাতিসংঘ সম্প্রতি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে গাজার মানুষের জন্য প্রতিটি দিন এখন অভিযোগ বা আলোচনার বাইরে এক নির্মম বাস্তবতা। তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে ক্ষুধা, আতঙ্ক আর মৃত্যুর ভয়ে।

সূত্র : বিবিসি

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভৈরবে রেলপথ অবরোধ, ৫ ট্রেন আটকা

৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মানববন্ধন, শনিবার থেকে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

সিএন্ডএফ ভবনেই মিলবে চসিকের ট্রেড লাইসেন্স, বুথ স্থাপনের নির্দেশ মেয়রের

নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

নানার বাড়ি থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ, খালে মিলল মরদেহ

দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, একাধিক বাড়িঘরে আগুন

কারাগারে আইভীকে গান শোনাতেন মমতাজ, যে গান না গাইতে অনুরোধ

পাকিস্তানের সিরিজ জয়

ইউক্রেন ছাড় দিলে সমঝোতায় প্রস্তুত রাশিয়া : পুতিন

ডাচদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ বাংলাদেশের

১০

আফগানিস্তানকেও রুখে দিল বাংলাদেশ

১১

দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি নাগরিক

১২

পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সিআইডি প্রধানের পদত্যাগ

১৩

যুবদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হলেন নির্যাতিত নেতা সাজিদ হাসান বাবু

১৪

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

১৫

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

১৬

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

১৭

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

১৮

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

১৯

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

২০
X