

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সহিংস সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করছে।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে এবং এখন বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক দাবিও তুলছেন।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, চলমান বিক্ষোভ এখনো দেশব্যাপী রূপ নেয়নি এবং দ্রুত গতি পাচ্ছে না।
শনিবার দেওয়া বক্তব্যে খামেনি বলেন, মাঝে মাঝে ও বিচ্ছিন্নভাবে আমরা বিক্ষোভ দেখতে পাচ্ছি—যেমন গত রাতে তেহরান, কাজেরুন ও অন্যান্য শহরে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
দেশটির আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানে বিক্ষোভ ‘সীমিত’ ছিল। এ বিক্ষোভে সাধারণত ৫০ থেকে ২০০ তরুণ অংশ নিয়েছেন। যেখানে তেহরানের জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি।
ফার্সের তথ্যমতে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের নওবত ও তেহরান পার্স, পশ্চিমের একতেবান, সাদেঘিয়েহ ও সত্তারখান এবং দক্ষিণের নাজিয়াবাদ ও আবদোলাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে পাথর নিক্ষেপ ও কিছু জায়গায় আবর্জনার বিনে আগুন দেওয়া ছাড়া বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের তুলনায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলে—বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে—সহিংসতা ও সংগঠিত হামলা বেড়েছে। পশ্চিম ইরানের মালেকশাহী জেলায় সংঘর্ষে এক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য কুর্দি জনগোষ্ঠী রয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটির দাবি, বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার চেষ্টা করলে সংঘর্ষে দুই হামলাকারী নিহত হন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিক্ষোভের খবর সীমিতভাবে প্রচার করছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শনিবার প্রথমবারের মতো বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি বক্তব্য দেন খামেনি। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলি, কর্মকর্তাদেরও তাদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। কিন্তু দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে আলোচনার কোনো লাভ নেই। তাদের উচিত কঠোরভাবে দমন করা।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি বলেন, খামেনির বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা একদিকে বিক্ষোভের নৈতিক বৈধতা দেয়। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
মন্তব্য করুন