কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নেতানিয়াহুর জন্য ‘আশীর্বাদ’ হয়ে এসেছে ইরানের হামলা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

বেশ কিছুদিন ধরে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক চাপের মধ্য ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ১ এপ্রিল ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলায় সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত ত্রাণকর্মী নিহত হয়। এ ঘটনায় নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বিষয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়েছিল।

তবে ইরানের হামলা যেন অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর জন্য। সম্প্রতি বিবিসির বিশ্লেষণে ওঠে এসেছে এমনই তথ্য।

গাজায় ইসরায়েলের আঘাতে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের কর্মীদের মৃত্যুর দিনেই সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারসহ সাত কর্মকর্তা নিহত হন। এর মধ্য দিয়ে দূতাবাসে হামলা চালানোর ওপর যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা লঙ্ঘন করে নেতানিয়াহু সরকার।

ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার পর বাইডেনের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল হোয়াইট হাউস। তাতে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও ছিল না। ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকজন ও ত্রাণকর্মীদের রক্ষায় যথেষ্ট তৎপর ছিল না ইসরায়েল সরকার।

ওই ঘটনার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বাইডেন। সে সময় গাজায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ, ত্রাণ প্রবেশে আরও সীমান্ত ক্রসিং খোলাসহ ইসরায়েলকে কিছু ছাড় দেওয়ার কথা তুলেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ইসরায়েলের আশদাদ বন্দরও খুলে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন বাইডেন। নেতানিয়াহুও পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তেমন কিছুই করা হয়নি।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের পাশাপাশি নিজ দেশেও সংসদে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের চাপের মধ্যেও ছিলেন নেতানিয়াহু। তাদের সমর্থনেই ইসরায়েলে ক্ষমতায় রয়েছে নেতানিয়াহুর জোট সরকার। এই জাতীয়তাবাদীরা শুধু গাজায় অবাধ ত্রাণ সরবরাহের বিরোধীই নন, চলমান সংঘাত উপত্যকাটিতে আবার অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেবে বলেও বিশ্বাস করেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র ব্যবহারের ওপর শর্ত আরোপ করবে হোয়াইট হাউস। শনিবার ইরানের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে একটি মতামত প্রকাশ করা হয়। সেই মতামতে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কট্টরপন্থিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশ্বাস ভঙ্গ’ করেছেন।

এরপরই ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো হামলা চালায় ইরান, যে হামলায় নতুন জীবন ফিরে পান নেতানিয়াহু। ইরানের ছোড়া তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে ইসরায়েলকে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা। এ ছাড়া আরব দেশগুলোর জর্ডানও শনিবার ইরানের হামলা ঠেকাতে তৎপর ছিল।

ইরানের হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক চাপ অনেকটাই কমে এসেছে নেতানিয়াহুর ওপর। মার্কিন সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আরোপ বিভিন্ন শর্তের বদলে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে ওয়াশিংটন। এতে রাজনৈতিকভাবে নতুন কিছু সুযোগ পেয়েছেন নেতানিয়াহু।

তবে ইরানের হামলার পর নেতানিয়াহুর ওপর চাপের ধরন বদলেছে। বাইডেন স্পষ্টভাবেই ইসরায়েলকে পাল্টা আঘাত না হানার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ‘লৌহবর্মের’ মতো মন্তব্য করেছেন বাইডেন। অর্থাৎ ইসরায়েলের পাশেই আছে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যেন বড় পরিসরে যুদ্ধ ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে দৌড়ঝাঁপ করছেন বাইডেন ও তার প্রশাসন। যদিও একই সঙ্গে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে ইসরায়েলকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত সমর্থন পাওয়ার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কোনো আহ্বানই কানে তুলছেন না নেতানিয়াহু।

ইরানের হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদেশগুলোর সহায়তার কয়েক দিন পরও ইসরায়েল সেই আগের অবস্থান ধরে রেখেছে বলে মনে হচ্ছে। তারা শুধু বাইডেনের সংযত থাকার আহ্বানই এড়িয়ে যাচ্ছে না, একই সঙ্গে হামলা ঠেকাতে সহায়তাকারী অন্য দেশগুলোর অনুভূতিও উপেক্ষা করছে।

নেতানিয়াহুর দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু ইরান। তারা মনে প্রাণে ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চায়। নেতানিয়াহুর মতো একই দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ইসরায়েলির।

এদিকে ইসরায়েল হামলা চালালে আরও কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে ইরান। তাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হোসেইন বাকেরি বলেছেন, ইসরায়েলে যে হামলা চালানো হয়েছে, তা ‘সীমিত’ ছিল। ইসরায়েল পাল্টা জবাব দিলে এবার তাদের ‘অনেক বড়’ খেসারত দিতে হবে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলছে ইসরায়েল ইরানে পাল্টা হামলা চালালে তাতে সহায়তা করবে না মার্কিন বাহিনী। তবে এটা বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষায় তার প্রতিশ্রুতি ‘লৌহবর্মের’ মতো। সব মিলে নেতানিয়াহু এ যাত্রায় টিকে গেলেন ইরানের হামলার আশীর্বাদেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেঘনায় নিউ আল-শেফা হাসপাতালকে জরিমানা, অপারেশন থিয়েটার সিলগালা

শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ও মিশরের একাদশে ৫ পরিবর্তন

নোয়াখালীতে দুই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ

ইরান যুদ্ধে যাদের ভূমিকায় হতাশ ট্রাম্প

আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

যুবদল সভাপতি-সম্পাদকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, হতাশ পদবঞ্চিত নেতারা

সর্বশেষ বৈঠক / মন্ত্রিসভায় যাচ্ছে নবম পে-স্কেল, যে হারে বাড়বে বেতন

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী

ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

‘আকু’র দেড় বিলিয়ন ডলার বিল পরিশোধ

১০

তাঁতী দলের নেতা বহিষ্কার

১১

বাংলাদেশের বাউল ঐতিহ্য তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক উৎসব

১২

চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা

১৩

মিসরের বিপক্ষে মেসির খেলা নিয়ে বার্তা স্কালোনির

১৪

সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কুশল বিনিময়

১৫

তারা বেঁচে আছে

১৬

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত: ট্রাম্প

১৭

ইউজিসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মানারাত ইউনিভার্সিটি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৮

নন্দনে নন্দিত হলো জীবনের ‘সম্পর্ক’

১৯

পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে নতুন দিগন্ত / ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের গ্রিনপ্যাক কারখানার উদ্বোধন

২০
X