সংকটকালে রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ শক্তির প্রয়োজন : রবিউল
বাংলাদেশ বর্তমানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সংকটের মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ একাধিক আঞ্চলিক ও পরাশক্তির চাপের মধ্যে আছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে এখন আর কোনো এক্সপেরিমেন্টের সময় নেই। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই বিএনপিই পারে দেশকে এই সংকট থেকে নিরাপদ পথে এগিয়ে নিতে।
শুক্রবার (0৯ জানুয়ারি) ধানমন্ডির আবাহনী মাঠে ধানমন্ডি থানার সামাজিক সংগঠন শতায়ুর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রবিউল আলম রবি বলেন, নতুন ও পুরনো সব রাজনৈতিক শক্তিই ক্ষমতায় যেতে চায়, যা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে দেশের বর্তমান বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দরকষাকষির সক্ষমতা এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে দৃঢ় একটি রাজনৈতিক দল এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিএনপি এর আগেও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমরা জানি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের করণীয় কী এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, এবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে। যদি আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হই, জনগণ তখন নতুন সিদ্ধান্ত নেবে এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু আজ দেশ সংকটে, এটা শখ বা পরীক্ষার বিষয় নয়, যোগ্যতাকে বেছে নেওয়ার সময়।
জনগণের ভূমিকা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আপনারাই রাষ্ট্রের মালিক। রাজনীতিবিদরা আপনাদের সেবক। আমরা এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং জনগণের মতামতেই নেতৃত্ব গড়ে উঠবে।বিএনপি রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়, যেখানে নেতা হবে জনগণের প্রতিনিধি দলের নয়।
ভবিষ্যতে এমন নেতা আমরা চাই না, যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে না বা দায়বদ্ধ হবে না বলেন তিনি।
আবাহনী মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল আলম রবি বলেন, মাঠটি অবশ্যই উন্মুক্ত থাকবে, তবে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। সবকিছু উন্মুক্ত আছে। তবে নিরাপত্তা, সময়সূচি, ব্যবহারবিধি সবকিছু বিবেচনায় এনে মাঠটিকে জনবান্ধব করতে হবে। এই মাঠ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি থাকবে না।
তিনি আরও জানান, ধানমন্ডিবাসীর জন্য মাঠের অবকাঠামো, কমিউনিটি হল ও ইনডোর সুবিধাগুলো সার্বজনীনভাবে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সাধারণ নির্বাচন নয়। ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নির্বাচন। আপনারা যদি ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের সুযোগ দেন, আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দরকষাকষির মাধ্যমে এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জনগণ, অসুস্থ নেতাকর্মী, প্রবাসে অবস্থানরতদের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা ও তারেক রহমানের দীর্ঘায়ুর জন্যও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা এবং ধানমন্ডির নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
২৫ মিনিট আগে