নতুনদের নিয়ে ‘ক্রীড়া সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ক্রীড়া সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করতে আগ্রহী তরুণদের হাতে–কলমে প্রস্তুত করতেই শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্রীড়া সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি: খেলার গল্প, খবরে প্রাণ’ শীর্ষক বিশেষ কর্মশালা। বিশ্বের প্রথম ক্রীড়া বিষয়ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গেমপ্লিফাই (gameplify.xyz)-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।
কর্মশালায় অংশ নিতে পাঁচ শতাধিক আগ্রহী রেজিস্ট্রেশন করলেও লটারির মাধ্যমে ১৭০ জন শিক্ষার্থী সরাসরি অডিটোরিয়ামে অংশ নেন। অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত হন আরও অনেকে। দিনশেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সার্টিফিকেট।
কর্মশালায় ক্রীড়া সাংবাদিকতার ইতিহাস, মাঠের রিপোর্টিং, টিভি জার্নালিজম, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ফিচার লেখা, মোজো জার্নালিজমসহ আধুনিক গণমাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে কথা বলেন দেশের বরেণ্য ক্রীড়া সাংবাদিকরা।
দুলাল মাহমুদ, জনপ্রিয় পাক্ষিক ক্রীড়াজগত-এর সম্পাদক, ক্রীড়া সাংবাদিকতার বর্তমান গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—“একসময় এই পেশাকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন পত্রিকাগুলোতে বড় পরিসরে ক্রীড়া সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ফটো সাংবাদিকও আছে বিশেষভাবে খেলাধুলা কভার করার জন্য। পেশা হিসেবে ক্রীড়া সাংবাদিকতা এখন আকর্ষণীয়।”
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নটআউটনোমানের প্রধান নোমান মোহাম্মদ তরুণদের শিখতে ও নতুনত্ব আনতে উৎসাহ দিয়ে বলেন—“রিপোর্ট লেখার শুরু আর শেষটা মাথায় আনতে পারলে মাঝের জায়গা সহজ হয়ে যায়। গল্প বলার মতো করে লিখতে হবে। আগ্রহের পাশাপাশি দরকার খেলার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও বৃত্ত ভাঙার সাহস।”
চ্যানেল ২৪–এর সাংবাদিক ও বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান রাজিব তথ্যপ্রবাহের যুগে ‘সত্যতা যাচাই’কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন—
“টেলিভিশনের জন্য সময় কম—তাই তথ্য বাছাইয়ে কঠোর হতে হবে। কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিতে হবে। তথ্য অবশ্যই সঠিক হতে হবে, এজন্য সবসময় ক্রসচেক জরুরি।”
দেশ রূপান্তরের সাবেক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা মামুন মাঠের রিপোর্টিংকে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রাণভোমরা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন—
“টিভিতে খেলা দেখে রিপোর্ট যাবে না। মাঠে যেতে হবে। মাঠের গন্ধ, পরিবেশ, ভেতরের–বাইরের সবকিছু দেখলেই আলাদা তথ্য পাওয়া যায়, যেটা দর্শক-দর্শনার্থী নয়—একজন রিপোর্টারই তুলে আনতে পারে।”
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গেমপ্লিফাইয়ের সিইও মাহফুজুর রহমান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিডিও বার্তায় অংশ নেন গেমপ্লিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। তিনি বলেন—“মানুষ সবসময় সংযুক্ত থাকতে চায়—সুপারবোল থেকে বিশ্বকাপ, সব জায়গায়। গেমপ্লিফাই খেলাধুলার ভক্তদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হতে চায়। প্রযুক্তির অগ্রগতির ভিড়েও মানুষের আস্থা অর্জনই আমাদের লক্ষ্য। সামনে আমরা এমন আরও কর্মশালা ও ট্রেনিং আয়োজন করব।”
দিনব্যাপী আয়োজন তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে—এমনটিই মনে করছেন আয়োজকরা।