ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৩, ০৮:৫৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য বাজেট হোক রোগীর কল্যাণে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার।

বর্তমান অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার গত বছরের চেয়ে পরিমাণগত দিক থেকে বেশি হলেও, কিছু কিছু খাতে আনুপাতিক দিক দিয়ে কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা পরিমাণগত দিক থেকে বেশি। কিন্তু আধুনিক মর্যাদাশীল বাংলাদেশ নির্মাণের বিবেচনায় বাজেটের পরিমাণ আরও বেশি হওয়াই প্রত্যাশিত। একটি আধুনিক উন্নতসমৃদ্ধ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বেশি হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কারণ একটি সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার মান যে সব সূচকের ওপর নির্ভর করে, তার অন্যতম প্রধান সূচক হলো স্বাস্থ্যসেবা খাত। বাংলাদেশে বর্তমানে অতীতের চেয়ে গড় আয়ু অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে (৭৩ বছর), শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে (৫ বছরের নিচে জীবিত শিশু জন্মের পর মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৩১ এবং মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১৬৩ জন), যা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক উন্নত দেশের চেয়ে করোনা মহামারিতেও তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ এর মোকাবিলায় সক্ষমতার উদাহরণ রেখেছে। কিন্তু এ সাফল্য চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়, এর আরও উন্নয়ন বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। উন্নতসমৃদ্ধ অগ্রসর রাষ্ট্রগুলো স্বাস্থ্য খাতে কমবেশি মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ বরাদ্দ রেখে থাকে (উদাহরণস্বরূপ ইউএসএ—মোট জিডিপির ১৮.৮২ শতাংশ, ইউকে—১১.৯৮ শতাংশ আফগানিস্তান—১৫.৫৩ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখে)। সেখানে আমাদের দেশে গত বছর ছিল ৫.৪ শতাংশ, এ বছর তা কমে ৫.২ শতাংশ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে শিক্ষা খাতেও বরাদ্দ কমেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি অনেকে মনে করেন যে, অনুৎপাদন বা সেবামূলক খাতে বরাদ্দ বেশি থাকলে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টোটি, কোনো জাতিকে যদি শিক্ষিত এবং সুস্থ-সবল না রাখা যায়, তবে সে জাতি কখনোই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে না এবং দেশের জনগণ অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হতে পারে না। এটি ত্ত্ববিদদের বেশ পুরোনো একটি দর্শন। আজকে যদি আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পরিমাণ কমিয়ে দিই, তাহলে মানুষের কি রোগ কম হবে? নিশ্চয়ই না। বরাদ্দ কমলে রোগ কম হবে না বরং বেশি হবে। আমরা স্বাস্থ্যের বাজেটের একটা অংশ প্রিভেন্টিভ বা রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখি। যদি বরাদ্দের পরিমাণ কমে যায় তবে প্রিভেন্টিভ বা রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে যেসব কর্মসূচি হাতে নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত বা রোগ থেকে রক্ষা করা যেত বা যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো যেত, সেসব দিকের গুরুত্ব কমে যাবে। বিশেষ করে কমিউনিকেবল ডিজিজের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই আমাদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন ইনফেকশাস ডিজিজ হতে আমাদের বাঁচাতে পারে। আবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপাদেয় খাদ্য এবং সঠিকমাত্রায় পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তা করা যেত, সেটিও ব্যাহত হবে। বর্তমানে চলমান একটি মারাত্মক কমিউনিকেবল ডিজিজ ডেঙ্গুর কথা যদি চিন্তা করি, ডেঙ্গু বিগত বছরগুলোর চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে আমরা দেখতে পারছি। ঠিক তেমনি অনেক ভাইরাল, ব্যাটেরিয়াল ও প্রটোজয়াল ডিজিজ যেটি প্রতিরোধ করা সম্ভব বা প্রিভেন্টেবল ডিজিজ, সেটি বাজেটে বরাদ্দের ঘাটতির জন্য যথাযথভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। আর রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যদি বলি বরাদ্দ কম হলে সরকারি হাসপাতালগুলোও তাদের চলমান কার্যক্রম এবং কার্যপরিধি সংকোচন করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বাজেটের এ অর্থ রাষ্ট্রের, তার মানে জনগণের টাকা। সরাসরি ট্যাক্স পেয়ার যারা, তারা যেমন ট্যাক্স দিচ্ছে আবার যারা সরাসরি ট্যাক্স পেয়ার নয় কিন্তু কনজিউম্যাবল গুডস ক্রয়ের মাধ্যমে ভ্যাট বা উৎস কর বা অন্যান্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রকে কর দিচ্ছেন, তাদের অর্থে বাজেট প্রণয়ন হচ্ছে। রাষ্ট্রের কোনো খাতে অনুদান যদি আসে, সেই অনুদান জনগণের নামেই আসে অথবা এটি যদি কোনো লোন হয়, সেই লোনও কিন্তু মাথাপিছু সব জনগণের ওপরই আসে। তাই রাষ্ট্রের সব আয় জনগণ থেকেই আসে। সুতরাং রাষ্ট্রীয় যে বাজেট বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের যে অর্থ, সে অর্থ জনগণের অর্থ। এ অর্থ কোথায় ব্যয় হবে সেটি খুব সুচিন্তিতভাবে জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। সেটি স্বাস্থ্য খাতেই হোক বা অন্য কোনো খাতেই হোক। উন্নয়নের ইমারত নির্মাণের বরাদ্দের চেয়ে বা সুশোভিত অন্যান্য ইট-কাঠ-পাথরের অবয়ব বা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে যে সাফল্য আমরা দেখাতে চাই বা করতে চাই, তার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হলো জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সুস্থ জনবল যদি না হয় তবে যেমন শ্রম দিতে পারবে না, অফিস-আদালতে কাজ করতে পারবে না, ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারবে না, বৃদ্ধাশ্রমে বা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য আমাদের যে সরকারি সাপোর্ট বা পারিবারিক সাপোর্ট সেটি আরও বেশি লাগবে ফলে রোগীর ভারে আমাদের সমাজ একটি সংকটে পড়বে। আমরা মহামারির সময় এ অভিজ্ঞতা সবাই প্রত্যক্ষ করেছি। সুতরাং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি মানে হলো সরাসরি জনগণের কল্যাণে বরাদ্দ বৃদ্ধি। জনগণের অর্থে সরাসরি জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি উত্তম পন্থা। অনেকভাবেই জনগণের অর্থ আমরা ব্যয় করতে পারি। তবে সেটি সরাসরি জনগণের কল্যাণ কতটুকু নিশ্চিত করে সেটি আমাদের ভেবে দেখতে হবে। বিশেষ করে আজকের দিনে আরও বেশি করে ভাবতে হবে কারণ বিশ্ব অর্থনীতির এ চাপে বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থাও একটি চাপে রয়েছে। জনগণের অর্থ যথেচ্ছা অপচয় করার অধিকার কারও নেই। আমাদের নেই অথবা কোনো প্রস্তাবকারীর নেই বা কোনো ব্যক্তিদেরও নেই। আমরা বিশ্বাস করি, সংসদে সঠিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে যদি এ বিষয়ে কোনো ঘাটতি থাকে সেটি বিবেচনা করে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে আমরা দেখছি যে, বেশ কয়েক বছর ধরে সঠিকভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করতে অক্ষমতা প্রদর্শন করছে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং তার অধীন অধিদপ্তরগুলো, যেটি দুর্ভাগ্যজনক। কারণ এখনো পরিসংখ্যান বলছে যে, ৭০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষ বেসকারিভাবে নিজের পকেট থেকে অর্থ দিয়ে ক্রয় করছে, সেখানে রাষ্ট্র ৩০ শতাংশ দিচ্ছে; তাহলে সেই রাষ্ট্রের টাকা জনগণের জন্য ব্যয় করতে অক্ষমতা প্রদর্শন করছে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এটি তো দুর্ভাগ্যজনক, হতাশাজনক ও অপ্রত্যাশিত সংবাদ। এটি কিন্তু কেউ প্রত্যাশা করে না। এ দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর এ দায়িত্ব বর্তায়। তাহলে প্রশ্ন হলো, কেন পারেন না সঠিকভাবে ব্যবহার করতে? কেন পারে না তার হয়তো একটি কারণ আছে। আমাদের মন্ত্রণালয়ে কিছু কর্তাব্যক্তি বা অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে কেনাকাটায় সুবিধা বেশি। তারা সবসময় উদগ্রীব হয়ে থাকেন বড় বড় যন্ত্রপাতি কেনা বা কাঠামো নির্মাণের জন্য যেখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। যেটি দুর্ভাগ্যজনক। অতীতে আমরা মিডিয়াতে দেখেছি, অনেকভাবে দুদকেও অভিযোগ এসেছে, সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছে যে, স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের অপচয় হয়। এ প্রেক্ষাপটে বলা যায় কোটি কোটি টাকা দিয়ে মূল্যবান যন্ত্রপাতি কেনার পর বছরের পর বছর তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে থেকে অকেজো হয়ে গেছে, যেটির জবাবদিহি খুবই দরকার ছিল। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এ জবাবদিহি না করার সংস্কৃতি যেন একটা বিশাল বাহবা পেয়ে যাচ্ছে শুধুই। সত্যিকার অর্থে খুব কম অপরাধীরই শাস্তি হচ্ছে বা অপসারিত হচ্ছে। বহাল তবিয়তে তারা স্বপদে থেকে নতুন নতুনভাবে জনগণের সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে অবস্থান করছেন। বরং সেখানে তারা আবার নতুনভাবে জনগণের পক্ষে বাজেট বরাদ্দ হবে সেখানেও তারা সঠিক ভূমিকা পালন করছেন না। তাদের ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভাগ্যজনক স্বাস্থ্যসেবার পরিণতি দেখতে হচ্ছে। যেটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। এখানে একটি বিষয় সম্ভবত পরামর্শ দেওয়ার আছে। যদি আমরা বাজেটে বিভাজন দিয়ে দিই, প্রতিটি খাত সুনির্দিষ্ট করে দিই যে বরাদ্দের এই অংশ মেডিকেল কলেজের জন্য, এই অংশ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের জন্য। আবার বরাদ্দ দিতে হবে নির্দিষ্টভাবে ক্যাটাগরি ভিত্তিক যেমন—চিকিৎসাসেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, অবকাঠামো ইত্যাদি খাতভিত্তিক। আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেন প্রাইভেটে গিয়ে উচ্চমূল্য কষ্টার্জিত টাকার বিনিময়ে জনগণকে না নিতে হয়, সে জন্য সব ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটি সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিশ্চিত করতে হবে। এ পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে যেন জনগণকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। শুধু অর্থের বিবেচনায় নয়, জনগণকে যেন প্রতারিত না হতে হয় কোনো সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে, এমনকি ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারস্থ না হতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেক অনিয়ন্ত্রিত ও মানহীন ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠান আছে প্রাইভেট খাতে, যাদের জন্য মানসম্পন্ন সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং প্রতিটি খাত অনুযায়ী বরাদ্দের পাশাপাশি বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সেবার মান যথাযথ পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য সহজেই গ্রহণযোগ্য করতে হবে। হাসপাতালের সেবার মান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বাড়াতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে। লোকবল বাড়াতে হবে, চিকিৎসক, সেবিকা, ল্যাবরেটরি স্টাফ এবং চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট সব লোকবল নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের মান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আমাদের সবারই খেয়াল রাখতে হবে রোগীর কনসালটেশন এবং চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সব সেবা যেন রোগীরা সরকারি হাসপাতাল থেকেই গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য সেবা প্রদানে আরও উদ্বুদ্ধ করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। যেমন ব্যবসা করলে টাকা বেশি, আমলাদের গাড়ি দেওয়া হয়, সরকারিভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, তারা প্রশাসনিক ক্ষমতা অনুশীলনের সুযোগ পায়। কিন্তু একজন চিকিৎসক এসব সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত। চিকিৎসকদের সেবার মান বাড়াতে ও নিজ কর্মক্ষেত্রে অবস্থান নিশ্চিত করার জন্যও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সরকারিভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে চিকিৎসকরা সেবার মান বাড়াতে আরও অঙ্গীকারবদ্ধ হবেন। চিকিৎসকদের প্রণোদনা বাড়াতে হবে, কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়ার সুবন্দোবস্ত করতে হবে, তাদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে হবে, তাদের দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সুগম করতে হবে। এসব দিক নিশ্চিত করতে পারলে পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে মানুষ সরকারি হাসপাতালের সেবার ওপর আস্থা রাখবে এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের নির্ভরতা কমে আসবে। স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরি সার্ভিসের জন্য সঠিক পরিমাণে বরাদ্দ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে গাড়ি কতটুকু যাবে, কত দ্রুত যাবে, কতটুকু শক্তি নিয়ে যাবে তা কিন্তু গাড়ির জ্বালানির ওপর নির্ভর করে। ঠিক তেমনি যদি আমরা অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে চিন্তা করি অর্থ সাশ্রয় করা হচ্ছে, তবে ভুল হবে। জনগণের অর্থ জনগণের জন্য খরচ করতে হবে এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এর সর্বোত্তম কল্যাণের রাস্তা হলো স্বাস্থ্য খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো। বরাদ্দ বাড়িয়ে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সুপরিকল্পিত এবং সুচিন্তিত পদক্ষেপ নেওয়া। নিশ্চিত করতে হবে যেন বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় ফেরত না যায়। যারা অপচয় করবে এবং যারা এর সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সঠিক, মানসম্পন্ন, আধুনিক, চাহিদামাফিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ বাড়িয়ে তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নও ছিল স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যূনতম মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ। তাই দেশের অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে, এ কথা মনে রেখে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাবে এটাই কাম্য।

লেখক : সাবেক উপ-উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাকৃবিতে রেললাইন অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা

আশঙ্কাজনক অবস্থায় জবির গুলিবিদ্ধ চার শিক্ষার্থী 

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ দেবে অটোবি, পদসংখ্যা ২০

কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, জামায়াতের নিন্দা

চট্টগ্রামে কোটা আন্দোলনে দুজন নিহত

কোটার বিষয়ে আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না সরকার : আইনমন্ত্রী

মতিউর পরিবারের ১৯টি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ 

ঢাবি প্রক্টরিয়াল কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

কোটা সংস্কার আন্দোলনে বরিশাল ব্লকেড

বেসিসের ফিনটেক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ার হলেন নগদের ইডি এলিট

১০

আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১১

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

১২

১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরির সুযোগ

১৩

জবি শিক্ষার্থীদের মিছিলে গুলি, আহত ৪

১৪

জাবিতে চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের সংহতি

১৫

জামালপুরে ছাত্রলীগের সমাবেশে হামলা, আহত ১

১৬

রংপুরে কোটা আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী নিহত

১৭

সরকার হটাতে কোটা আন্দোলনকারীদের দলে ভেড়াতে চায় ছাত্রদল

১৮

অবরোধে অচল ঢাকা

১৯

জবিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের অবস্থান 

২০
X