কালবেলা প্রতিবেদক, গাজীপুর
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪, ০১:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অর্থাভাবে চিকিৎসা এগোচ্ছে না আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ রায়হানের

হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন রায়হান মিয়া। ছবি : কালবেলা
হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন রায়হান মিয়া। ছবি : কালবেলা

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকালে গাজীপুরের সফিপুর এলাকায় আনসার একাডেমির সামনে গুলিতে আহত হন কলেজ শিক্ষার্থী রায়হান মিয়া। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। তবে দরিদ্র পরিবারের সন্তান রায়হানের চিকিৎসায় অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। টাকার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না তার পরিবার।

গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান মিয়া (২২)। এক হাত থেঁতলানো ছাড়াও পুরো শরীরে অসংখ্য ছররা গুলির ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

জানা গেছে, রায়হান মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট গাজীপুরের কালিয়াকৈরের শফিপুরে আনসার একাডেমির সামনে গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরের দিন ৬ আগস্ট রায়হান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলায় বার্ন (ব্লু) ইউনিটের ৪১৯ নম্বর (পুরুষ) ওয়ার্ডে ৭ নম্বর বেডে ভর্তি হন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার হরিরামপুর ছাপিপাড়া এলাকার কৃষক রমজান আলীর ছেলে রায়হান। তিনি গোবিন্দগঞ্জ থানার নাকাইহাট কলেজের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ক্রোড়গাছা বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে লেখাপড়া করছেন।

রায়হানের স্বজনরা জানান, গুলিতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রায়হান। পরে তাকে লাঠি ও পায়ের বুট দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে রায়হান মারা গেছে ভেবে তাকে পাশের সীমানা প্রাচীরের ওপর দিয়ে বাইরের নালার মধ্যে ফেলে দেয়। পরে এলাকাবাসী তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

রায়হানের সহপাঠী নাঈমা সুলতানা জানান, পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য রায়হান গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি গাজীপুরের সফিপুর এলাকায় ইকো টেক্স নামের এক পোশাক কারখানায়ও চাকরি করত।

রায়হানের মা রাশিদা বেগম বলেন, রায়হান চাকরির বেতন থেকে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো ছাড়াও মাস শেষে গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠাত। এখন পর্যন্ত অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তার এ চিকিৎসার পুরো টাকাটাই অন্যের কাছ থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। বিনামূল্যে হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ দিলেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। আমাদের দ্বারা তার চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর। যদি সমাজের বিত্তবানরা সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমার ছেলেটাকে সুস্থ করতে পারব।

যোগাযোগ-০১৩০৫০০৯৫৭৪ (রায়হানের মা) ও ০১৭৭৬৭০৪৭৬৮ (রায়হানের বড় বোন)।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আরাও এক আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী

গভীর রাতে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের দেশ ছাড়ার গুঞ্জন!

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য : দুঃখ প্রকাশ সেই জামায়াত নেতার

আর্সেনালকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ জমিয়ে তুলল ম্যানইউ

তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের ফোনালাপ

ইয়ামালের অসাধারণ গোলে আবারও লা লিগার শীর্ষে বার্সা

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি তার ভাইয়ের

কিশোরদের কানে ধরে ওঠবস বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর সর্বমিত্র

বাগেরহাটের ডিসি-এসপিকে ফোন করে হুমকি

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

১০

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

১১

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

১২

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

১৩

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

১৪

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

১৫

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

১৬

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

১৭

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১৮

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

১৯

মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

২০
X