শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী হোসনে আরা ওরফে হুসুর (১৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়ির টয়লেটের সামনে থেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা হুসুর লাশ উদ্ধার করে তার পরিবার। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত হুসু তারাবুনিয়া ইউনিয়নের আসামিকান্দি গ্রামের আনসার আলী খানের মেয়ে ও আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
এর আগে হুসুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী হানিফা গাজীর (১৮) বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৯ মে একটি ধর্ষণ মামলা করেন তার মা আছমা বেগম।
আসামি হানিফা গাজী একই ইউনিয়নের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান গাজীর ছেলে। সে একটি মুদি দোকানের কর্মচারী। মামলার প্রেক্ষিতে হানিফাকে আটক করে কারাগারে পাঠায় সখিপুর থানা পুলিশ। ২০ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২৭ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরে হানিফ।
হুসুর পরিবারের অভিযোগ, মামলা থেকে জামিন পেয়ে ক্ষিপ্ত হানিফা গাজী হুসুকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।
হুসুর মা আসমা বেগম বলেন, হানিফ তার কুকর্মের প্রমাণ মুছতেই আমার মেয়েকে রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমি হানিফার বিচার চাই। ফাঁসি চাই।
হুসুর বাবা আনসার আলী খান বলেন, আমি গরিব দেখে কারও কাছেই বিচার পাই না। অনেকের দুয়ারে দুয়ারে গেছি। কেউ-ই গুরুত্ব দেয় না। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছি।
হুসুর প্রতিবেশী সেলিম মিয়া বলেন, এটা কখনোই স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। সুস্থ-সবল হুসুকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফা গাজী বলেন, হুসুকে ধর্ষণ বা হত্যা কিছুর সঙ্গেই আমি জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আপনারা আমাকে বাঁচান। মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় আমি কারাগার থেকে এসে এখন অসুস্থ। শুনেছি হুসুর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, আমি হুসুকে খুন করেছি। ডিএনএ রিপোর্ট এলেই সব পরিষ্কার হবে।
এবিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুরে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন