কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৫৩ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বদরুন্নেছায় চলে ছাত্রলীগ নেত্রী ‘শেলীর শাসন’

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সেলিনা আক্তার শেলী। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সেলিনা আক্তার শেলী। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপপরিবেশবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা আক্তার শেলী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। কদিন আগেই ছাত্রলীগ আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্র সমাবেশ শেষে ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় উঠে এসেছিল তার নাম। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সিট-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জোর করে দলীয় মিছিল-মিটিংয়ে যেতে বাধ্য করা, কেউ যেতে না চাইলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের সাধারণ শিক্ষার্থী যারা রাজনীতি করে না তাদের মানুষই মনে করে না, যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে। আর খাবারের কথা কী বলব, খাবারের চার্টের রিসিটে লেখা আছে ৮০০ টাকা, তারা নেয় ১ হাজার টাকা। খাবারের মান অনেক খারাপ, ওই খাবার খেয়ে বেঁচে আছি এটাই অনেক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী জানান, সিটের জন্য আবেদন করার পর অফিসিয়াল কার্যক্রম শেষ করেও সিটে উঠতে পারেননি তিনি। বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেলিনার অনুসারীরা। পরে টাকা দিয়ে সিটে ওঠেন তিনি। এ টাকা সেলিনার কাছে পাঠায় তার অনুসারীরা। অভিযোগ রয়েছে, ৭ থেকে ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে।

কোনো স্লিপ বা ডকুমেন্টস রাখা হয় কিনা জানতে চাইলে এই শিক্ষার্থী বলেন, নগদ টাকা দিতে হয়। কোনো ধরনের স্লিপ কিংবা ডকুমেন্টস রাখা হয় না।

তিনি বলেন, আমি অফিসিয়ালি সিট ইস্যু করছি কিন্তু আমাকে বলছে তোর কোন মা এসে তোকে সিট দেয় আমি দেখব। তুই হলে থাকতে পারবি না, কালই তোকে হল ছাড়তে হবে। পরে শুনেছি নতুন মেয়েরা উঠেছে ওদের কাছ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা নিয়েছে। আমাকে দুদিন আগে ডেকে বলে তোমাকে আরও ৬ হাজার টাকা দিতে হবে এটা হলো চার্জ।

শুধু সিট-বাণিজ্যই নয়, বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ক্যান্টিন থেকে দৈনিক ৪০০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। বদরুন্নেসা কলেজ শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেলিনা। তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সিট দেয় প্রশাসন। এসবের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই তার। জোর করে প্রোগ্রামে নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

সেলিনা বলেন, সিট বাণিজ্যের বিষয়টি ভুয়া। ম্যাডামরা সিটের জন্য মেয়েদের আবেদন করতে বলেছে। তাদের শিক্ষা ও রেজাল্ট অনুযায়ী সিট দেওয়া হবে। এখানে তো আমার কোনো হাত নেই। তবে অনেকে আছে আমার বিরোধী তারা এগুলো করানোর চেষ্টা করছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিশেষ নিয়মকানুন বেঁধে দিয়েছেন ছাত্রলীগের এই নেত্রী। কোনো শিক্ষার্থী এই নিয়মের বাইরে গেলে রুমে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর। আজকের পত্রিকায় এমন সব অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গত ১৫ মাসের ইতিবাচক পরিবর্তন অন্তর্বর্তী সরকারের সফলতা : উপদেষ্টা ফরিদা

পোস্টাল ব্যালট বিতরণ কবে থেকে, জানালেন প্রেস সচিব

কোটের হাতাতে এই অতিরিক্ত বোতাম কেন থাকে, আসল রহস্য জেনে নিন

জকসুর ভোট গণনা স্থগিত

বাঁশঝাড়ে মিলল শিশু সিনথিয়ার মরদেহ

বিপিএলে ভারতীয় উপস্থাপককে আনছে না বিসিবি

সব শঙ্কা কাটিয়ে শুটিং ফ্লোরে শাকিবের ‘প্রিন্স’, মুক্তি ঈদে

আ.লীগের ৫০ নেতাকর্মীর পদত্যাগ

তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ দলের সাক্ষাৎ, যে আলোচনা হলো

ভোটকেন্দ্র দখল করতে এলে প্রতিহত করা হবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

১০

আইপিএল অনিশ্চয়তার পর পিএসএলে নতুন ঠিকানা মুস্তাফিজের

১১

সিস্টেম গ্রুপের পারিবারিক আয়োজনে তারা চারজন

১২

হাদির টর্চলাইট

১৩

২০৩২ পর্যন্ত তরুণ কোচ রোজেনিয়রের ওপর আস্থা রাখল চেলসি

১৪

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে কাঁপল হিন্দু কুশ অঞ্চল

১৫

আদালতের ভেতরে কার ইশারায় সুবিধা পাচ্ছে ঋণখেলাপিরা?

১৬

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর দিলেন ইলন মাস্ক

১৭

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শেখ হাসিনা সরাসরি দায়ী : খোকন

১৮

শীতের দাপট কতদিন থাকবে জানালেন আবহাওয়াবিদ

১৯

বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে বানানো হলো ৬ কিলোমিটার রুটি

২০
X