কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অর্থাভাবে নিজেদের কিডনি বিক্রি করছেন মিয়ানমারের নাগরিকরা

কিডনি বিক্রির চক্র। প্রতীকী ছবি
কিডনি বিক্রির চক্র। প্রতীকী ছবি

সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর থেকে টালমাটাল মিয়ানমার। দেশটিতে অব্যাহতভাবে সংঘাত লেগেই আছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছে বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ফলে একের পর এক সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে দেশটিকে।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি এতটাই তলানিতে ঠেকেছে যে দেশটির পাঁচ কোটি ৪০ লাখ মানুষের প্রায় অর্ধেকই এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। এমনকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে।

শনিবার (৩১ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের তিন বছর পরে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দরিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) গবেষকরা বলছেন, ২০১৭ সালের পর দারিদ্র্য দ্বিগুণ হয়েছে। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির পথে হাঁটছে দেশটির দরিদ্ররা। এ জন্য কাজ করছে এজেন্টরাও। যদিও তা কোনোভাবে আইনসিদ্ধ নয়।

অর্থাভাবে কিডনি বিক্রি করা ব্যক্তিদের একজন ডেলিভারি চালক মং মং। ২০২২ সালে তিনি নিজের কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ফেসবুকে পোস্টও করেন তিনি। পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতে তার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি হয়। এক চীনা-বর্মী ব্যবসায়ী তিন হাজার ডলারে তার কিডনি সংগ্রহ করেন।

জাতিসংঘের ২০১৯ সালের তথ্যানুসারে, মং মংয়ের কিডনি বিক্রির টাকা মিয়ানমারের শহরের কোনো পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

মং মং বলেন, আমার একটি কিডনি আছে। আর আর বেশি হলেও ১৫ থেকে ২০ বছর বাঁচব। এরপর আমার মৃত্যু হবে। তবে এতে কোনো আফসোস নেই আমার।

তিনি বলেন, আমার জীবন দুর্বিষহ না হয়ে উঠলে আমি কখনও এটি করতাম না। চাকরি নেই, ঘরে খাবার নেই। ফলে পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে স্ত্রী সন্তানসহ আমরা প্রায় মরতে বসেছিলাম।

কেবল তিনি নয়, মিয়ানমারে এমন আরও অসংখ্য লোক রয়েছেন যারা অর্থের জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করছেন।

মিয়ানমারে এ ব্যবসার জন্য অনলাইন এজেন্ট রয়েছেন। এসব এজেন্টদের মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রয়োজনীয় নথি জাল এবং অস্ত্রোপচার করে থাকেন। ভারতে অঙ্গ বিক্রি অবৈধ। বিরল কিছু ব্যক্তি ছাড়া কেবল আত্মীয়দের অঙ্গদানের অনুমতি রয়েছে। এজন্য এজেন্টরা আইনজীবী এবং নোটারিদের সহায়তায় জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

সিএনএন জানিয়েছে, তারা এ সংক্রান্ত অন্তত তিনটি ফেসবুক গ্রুপ খুঁজে পেয়েছে। এরপর এসবের সঙ্গে জড়িত অন্তত দুজনের সঙ্গে কথা বলেছে তারা। অর্থের অভাবের কারণেই এসব কাজে জড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৮ হাজার ১০০ কোটির টুর্নামেন্টের লড়াই শুরু

ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : টুকু

৩২ আসন নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নতুন বার্তা

জামায়াত আমিরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সাক্ষাৎ

অবশেষে ভারতের ভিসা পেলেন ইংল্যান্ডের তিন ক্রিকেটার

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় নজর কেড়েছে জেএমজি ফার্নিচার

তারেক রহমানের সহধর্মিণীকে ছবি দেখাচ্ছেন জুলাই শহীদের মা 

ফের বিশ্ব মঞ্চে ফিরছে বিটিএস

১০

ছাত্রদলের নির্বাচন অফিস ঘেরাও নিয়ে শিবির সেক্রেটারির স্ট্যাটাস

১১

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে এখনই

১২

ইসির কাঠগড়ায় দ্বৈত নাগরিকত্ব

১৩

আর্টেমিস-২ মিশন / ৫০ বছর পর চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুত নাসা

১৪

পাম্পে শ্রমিক হত্যার অভিযোগ, ‘সুজন যুবদলের কেউ নয়’

১৫

আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

১৬

গাজার জন্য গঠিত বোর্ড অব পিসে আমন্ত্রণ পেলেন যারা

১৭

লামিন বনাম রিয়াল: স্পেন শিবিরে বাড়ছে অস্বস্তি

১৮

রক্ত লাগলে রক্ত দেব: সারজিস

১৯

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে’

২০
X