

প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে পাকিস্তান। আজ তারা ৯০ রানের বড় ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। সেইসঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক দল। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তোলার পর বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। এর ফলে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করল পাকিস্তান। সেইসঙ্গে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহুর্তে অন্য দলগুলোকে একটা বার্তাও দিয়ে দিল আঘা-বাবররা। যদিওবা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে পাকিস্তানের।
আজ শনিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা অবশ্য খুব ভালো কিছু ছিল না। সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুব ও অধিনায়ক সালমান আগা ইনিংসে গতি আনেন। ফারহান ৫ বলে ৫ রান করে আউট হন। ১৭ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
তারপর মাত্র ১১ বলে ২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে সাইম আউট হন। তবে তখনই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে পাকিস্তান। বাবর আজম এদিন ব্যর্থ হলেও, একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা ঘোরান সালমান আলী আঘা। অধিনায়ক সালমানের ৪০ বলে ৭৬ রানের ইনিংসই ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তার ব্যাট থেকে আসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯০। মিডল অর্ডারে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন উইকেটকিপার উসমান খান। ৩৬ বলে ৫৩ রান করে তিনি আউট হলেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান।
শেষ দিকে শাদাব খান (২০ বলে অপরাজিত ২৮) ও মোহাম্মদ নওয়াজ (৩ বলে অপরাজিত ৯) ঝোড়ো ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে চাপ আরও বাড়ান। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৮/৫। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটি করে উইকেট পান জেভিয়ার বার্টলেট, ম্যাথু কুহনেম্যান, কুপার কনোলি, সেন অ্যাবট ও অ্যাডাম জাম্পা।
১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শুরু থেকেই ধসে পড়ে। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। ট্রাভিস হেড ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ দ্রুত বিদায় নেন। মাঝখানে ক্যামেরন গ্রিন ২০ বলে ৩৫ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও, তাকে ফিরিয়ে দিয়ে আবার ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন বোলাররা।
বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। মাত্র ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন শাদাব খান, ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। এছাড়া উসমান তারিক ২.৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। মোহাম্মদ নওয়াজও ছিলেন কিপটে, ২ ওভারে ১১ রান দিয়ে তুলে নেন একটি উইকেট।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানে। ফলে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় পাকিস্তান। সেই সাথে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতল পাকিস্তান। ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৬ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও নিজের করে নেন পাক অধিনায়ক সালমান আঘা।
মন্তব্য করুন