

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেখতে চায়, দেশ ও জনগণের জন্য কোন রাজনৈতিক দল কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। আমরা আপনাদের সামনে পরিকল্পনা দিয়েছি। এ মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যে দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সামনের দিকে পরিচালিত করতে হয়। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে এ রকম কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্কে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে এক সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে ধর্মটা জাতপাত মুখ্য নয়, আমাদের কাছে ধর্মটা মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে, সে বাংলাদেশের মানুষ। কাজেই আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে চাই। আমরা যদি দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তাহলেই একমাত্র সম্ভব দেশ ও জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান করা।
তিনি আরও বলেন, আজ সিরাজগঞ্জের মেরি ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সারাজীবনের জন্য নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এ রকম হাজারও মেরি বাংলাদেশে রয়েছে। যে মানুষগুলো গত ১৬-১৭ বছর যাবত প্রতিবাদ করেছে, কিসের প্রতিবাদ? গত ৫ আগস্ট পালিয়ে গিয়েছে তারা আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকার, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়েই মেরিসহ আমাদের হাজার হাজার ভাই-বোন নির্যাতিত হয়েছে, পঙ্গুত্ববরণ করেছে, এমনকি বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগের প্রতিদান দিতে হলে, শুধু মিটিং করলে হবে না। তাদের প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিল সারা বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে এবং এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে হয় তাহলে অবশ্যই ১২ তারিখে আপনাদের সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় বহু কাজ করার আছে। যে কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। আমাদের নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশ গঠন করতে হবে। সিরাজগঞ্জ-পাবনায় যেমন কৃষি আছে, ঠিক তেমনি ছোট ছোট শিল্পকারখানা আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কৃষিকে যেমন আমাদের টেনে উঠাতে হবে, একই সঙ্গে লাখ লাখ তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। নতুন নতুন শিল্পপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। যেহেতু উত্তরাঞ্চলে কৃষিজীবী মানুষ বেশি সেহেতু এ অঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে চাই। যাতে এ এলাকার যুবকদের, তরুণদের, বোনদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, লুঙ্গির কথা বলি, তাহলে প্রথমেই ভেসে আসে সিরাজগঞ্জ-পাবনা এলাকার কথা। বহু মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমরা যদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি, তাহলে তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারব এবং আমরা তাই করব।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় তিনি সারা বাংলাদেশে নারী শিক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করেছেন যার সুবিধা আজও মেয়েরা পাচ্ছে। আগামীর বিএনপি সরকার, আগামীর ধানের শীষের সরকার এই মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মায়ের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে গৃহিণীদের পর্যায়ক্রমে স্বাবলম্বী করে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান বলেন, এই দেশের কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। তাদের পরিশ্রমের ফলে দেশের মানুষ দুবেলা-তিনবেলা ভাত খেতে পায়। আমরা এই কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের প্রয়োজনীয় বীজ, সার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। সেজন্য কৃষকদের কৃষক কার্ড তুলে দিতে চাই।
তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজ আইটি সেক্টরে কাজ করে। তাদের আমরা প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব। আমাদের ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে চাই। যারা ভালো খেলোয়াড় তাদের খুঁজে বের করে আনতে চাই। সে যে খেলায় ভালো, যাতে করে শুধু জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা মসজিদ, মাদ্রাসার খতিব-ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করতে চাই। ১২ তারিখে ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকে এই কাজগুলো শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কাজগুলো বিএনপির পরিকল্পনা। এগুলো বাস্তবায়নে জনগণেরও পরিকল্পনা থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষে ভোট দেব, দেশ গঠনের কাজে হাত দেব। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য লাখো শহীদ জীবন উৎসর্গ করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজকে যদি ২০ কোটি মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করে আবার আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে যেতে না পারে। গত ১৬ বছর ধরে আমাদের যেসব ভাই-বোনরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে সেই অধিকার যাতে কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে। আপনাদের অনেকেই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। তাদের দেখামাত্রই বলবেন, গুপ্ত তোমরা। কারণ তাদের গত ১৬ বছর আমরা দেখিনি। যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গিয়েছে তাদের সঙ্গে তলে তলে এরা মিশে ছিল।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে শপথ একটাই, জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং বাংলাদেশকে শহীদদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষের পক্ষে থাকবে।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম, পাবনা-৪ হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী এম আকবর আলী, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এমএ মুহিত সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা, পাবনা-১ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান, পাবনা-২ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আসনের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন