

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আকাশে কিছু কালো চিল ঘোরাফেরা করছে। ওরা যদি ছোঁ মেরে ভোটকে এলোমেলো করে দিতে চায় সব ডানা খুলে ফেলবেন। ওই স্লোগান অচল যে, ‘আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোটও আমি দিব’। ওই দিন শেষ। তোমারটা তুমি দাও। আমরাটা আমি দিব। আমরাটায় হাত দিবা না। হাত দিলে আগুন জ্বলে উঠবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১০ নির্বাচনী এলাকা কলাবাগান গ্রিন রোডের সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ জামায়াত-শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দীন সরকারের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, আমাদের যুবকরা উড়োজাহাজ। তারা ঊর্ধ্বগতিতে দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা বসবো প্যাসেঞ্জারের সিটে। আমাদের যুবকরা লড়াই করে জীবন দিয়েছে। আবু সাঈদ জীবন দিয়েছে। হাদী জীবন দিয়েছে। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছে। এই দেশের যুবকরা দমে যাবে না ইনশাআল্লাহ।
সুতরাং, ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন তথা পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষে আমাদের প্রথম ভোটটি হোক ‘হ্যাঁ’ ভোট। যারা এই গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বলবেন আমরা মনে করব তারা এই বাংলাদেশের মানুষকে চব্বিশের শহীদদের স্বীকার করছেন, স্বীকৃতি দিচ্ছেন এবং সম্মান জানাচ্ছেন। তারা ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চান না।
তিনি বলেন, আমি জামায়াতের বিজয় চাই না। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। তাহলেই আমরা সবাই বিজয়ী হবো। যারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায় তাদের আপনারা তাড়িয়ে দেবেন। জাতিকে আর কারও গোলাম বানাতে দেওয়া হবে না। আমি কথা দিচ্ছি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে চব্বিশের হত্যাকারীদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে ইনশাআল্লাহ। তোমরা যে আকঙ্ক্ষা ধারণ করে লড়াই করেছিলে, সেটি বাস্তবায়নে আমরা সব শক্তি নিয়োগ করতে পিছপা হবো না।
জামায়াত আমির গত ১৭ বছরে জামায়াতের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমাদের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অনেক নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছিল। সর্বত্রই জুলুম নেমে এসেছিল। পুরো দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছিল। সবকিছুর পরই আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে ৫ আগস্ট এসেছে।
ঢাকা-১০ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে জনগণের নেতা নয় সেবক হবো। আমরা কোনো যুবককে বেকার ভাতা নয় তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেমন সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিকের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন- জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আব্দুস সবুর ফকির, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমান, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, কামরাঙ্গীরচর পশ্চিম থানা আমির মজিবুর রহমান খান, মজিলসে শূরা সদস্য আব্দুল বারী আকন্দ, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাইফুল ইসলাম, শেখ শরীফ উদ্দিন আহমদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ রমিজ উদ্দিনের পিতা একেএম রকিব উদ্দীন।
স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজের মুস্তাকিম আহমদ, কলাবাগান থানা জামায়াতের আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোশতাক, ধানমন্ডি থানা আমির মোস্তাফিজুর রহমান, হাজারীবাগা উত্তর থানা আমির মাহফুজ আলম, হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমির আক্তারুল আলম সোহেল, কলাবাগান পূর্ব থানা আমির জাহেনুর রহমান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন