কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কী ঘটছে মিয়ানমারে?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার যেন একটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে। মাঝে মাঝে ছোট আকারের অগ্নুৎপাতও ঘটছে। তবে যে কোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এমন শঙ্কায় সেনাবাহিনীকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রীতিমতো কোনঠাসা হয়ে পড়েছে সেনাবাহিনী। এতেই যেন মাথা নষ্ট অবস্থা জান্তা সরকারের। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। করা হচ্ছে বিমান হামলা। নতুন করে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। প্রাণ ভয়ে যে যেভাবে পারছে ছুটছে সীমান্তের দিকে। এ যেন ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের মতোই আরেকটা রোহিঙ্গা নিধন মিশন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, গেল কয়েক দিনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। আশ্রয় নিয়েছে ভারতের সীমানায়। জান্তা বাহিনীর এমন কাণ্ডে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। রয়টার্সে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ রাজ্যে সেনাবাহিনীর কিছু ক্যাম্প জালিয়ে দিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যরা। প্রাণ ভয়ে কিছু সেনা সদস্যও পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ভারত এবং চীন সীমান্তে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন রাজ্যে। পরিস্থিতি অনেকটা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী শঙ্কা করছে, তাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালাতে পারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এরই মধ্যে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর সব ক্যাম্প জালিয়ে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদিরা। অঞ্চলটির বিদ্রোহীরা বলছেন, সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা পেতে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এক হয়ে যুদ্ধে নেমেছে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে স্বেচ্ছায় তরুণতা স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোতে যোগ দিচ্ছে। নিচ্ছে প্রশিক্ষণও। তারাই রুখে দাঁড়াচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে। ২০২১ সালে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চিকে হঠিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে জান্তা সরকার। তখন থেকেই সু চিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সেনা শাসনের প্রতিবাদে তখন রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। মিয়ানমারে জাতিগত বিদ্বেষ বহু পুরোনো। বিশেষ করে সবচেয়ে দশকের পর দশক ধরে নির্যাতন আর বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পিড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। ৬ বছর পরও তাদের ফেরত পাঠানো যায়নি নিজ দেশে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে জমিয়তের বৈঠক

আইসিসি থেকে মিলল সুখবর

যে নিয়মে বাড়িভাড়া বাড়াতে হবে মালিককে

কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট ও ক্লিনিক স্থাপনের আশ্বাস তারেক রহমানের

আমরা বুড়ো হয়ে গেছি—চঞ্চলকে বললেন পরী

রূপায়ণ সিটির বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত

যে কারণে পদ হারালেন বিএনপির ২ নেতা

শিশু শিক্ষায় মানদণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক পতন

সৌদিতে কমছে প্রবাসীদের কাজের সুযোগ, নতুন নির্দেশনা জারি

১০

জামায়াতের ৭ নেতা পাচ্ছেন নিরাপত্তা

১১

মাঠ ছেড়ে শুনানিতে? হাজিরা দিয়ে কী বললেন ভারতের এই তারকা ক্রিকেটার?

১২

তুরস্ক-কাতারকে হুমকি দিলেন নেতানিয়াহু

১৩

প্রেমিকার পাঠানো চিঠি গেল বাবার হাতে, অতঃপর…

১৪

মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিতে চাই : তারেক রহমান

১৫

কুয়েতে প্রতি ৩৪ মিনিটে এক বিয়ে, ৭৫ মিনিটে বিচ্ছেদ

১৬

শাহরুখকে ‘চাচা’ ডাকলেন তুর্কি অভিনেত্রী! ভাইরাল স্ক্রিনশট ঘিরে তোলপাড়

১৭

ভারতে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে যা জানালেন লিটন দাস

১৮

গ্রিনল্যান্ড দখলের এআই নির্মিত ছবি শেয়ার করলেন ট্রাম্প

১৯

ভাড়াটিয়াদের ছাদের ও মূল গেটের চাবি দেওয়ার নির্দেশ

২০
X