কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪, ১০:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছিল ইসরায়েল

ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রতীকী ছবি
ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রতীকী ছবি

আরব ভূখণ্ডে উড়ে এসে জুড়ে বসতে গিয়ে শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে নিঃসঙ্গ ছিল ইসরায়েল। ধর্মীয় ও জাতিগত পার্থক্য থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এর ছিল সুনির্দিষ্ট বিভেদ।

অন্যদিকে ভৌগোলিকভাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের হলেও প্রতিবেশী আরবদের সঙ্গে পারসিয়ানদের ছিল নিবিড় জাতিগত পার্থক্য। বলা চলে, ইরান ও ইসরায়েল দুই-ই অনারব।

এই প্রেক্ষাপটেই তারা একে অপরকে কাছে টেনেছিল। ইরানে রাজতন্ত্রের সমাপ্তির পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ইসরায়েলের।

এমনকি ইরাকের বিরুদ্ধে টানা এক দশক ধরে লড়াইয়ে ইরানের পাশে ছিল ইহুদি প্রশাসন।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সাপে-নেউলে সম্পর্ক। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে এই দুই দেশই ‘ভিনদেশি’। তাই এক সময় এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই সম্পর্ক ইসলামি বিপ্লবের পরও টিকেছিল।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের এই সম্পর্কে আদ্যোপান্ত নিয়ে একটি বই লিখেছেন ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক সভাপতি ট্রিটা পার্সি। ট্রেচারাস অ্যালায়েন্স: দ্য সিক্রেট ডিলিংস অব ইসরায়েল, ইরান অ্যান্ড দ্য ইউনাইটেড স্টেটস বইয়ে এই সম্পর্কে সবিস্তার তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দেশ ইরানে ১৩০০ বছর রাজতন্ত্র ছিল। কিন্তু ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে সেই রাজতন্ত্র সমূলে উৎপাটন করেন আয়াতুল্লাহ রুহল্লাহ খামেনি।

১৯৭৯ সালে হওয়া সেই বিপ্লবের রেশ এখনো রয়েছে ইরানে। এমনকি দেশটির কোণে কোণেও খামেনির প্রভাব এখনো প্রবল। অথচ অনারব দেশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল। ইরানের সামরিক শক্তি আর ইসরায়েলের কাছে আরব দেশগুলোর তেল বিক্রি করতে না চাওয়ায়, তেহরানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল তেল আবিব।

এক দশক ক্ষমতায় থাকা অবস্থা খামেনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। এমনকি তিনিই সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি যিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ এবং ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে খামেনির লড়াই শুধু সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই ছিল না। আরব একটি দেশের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান। ইসলামি বিপ্লবের মাত্র ১৮ মাস পর ইরান প্রথমবার বিদেশি হামলার শিকার হয়।

১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানে হামলা চালায় সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী। তখন অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানের পাশে এসে দাঁড়ায় ইসরায়েল।

জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক এবং সীমানাগত বিরোধ থেকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়। তবে এসব বিরোধের মূলে ছিল শাত আল-আরব জলপথ। এই জলপথ দুই দেশের মধ্যে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সীমানা।

ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে হামলা চালান সাদ্দাম হোসেন। এর পেছনে সীমানাগত বিষয় যেমন ছিল, তেমনি ইরানের শিয়া মতবাদ এবং ইরাকের সুন্নি মতবাদের মধ্যে মতাদর্শ সংঘাতও দায়ী।

সাদ্দাম হোসেন চেয়েছিলেন আঞ্চলিক প্রভাব বাড়িয়ে ইরানের বিপ্লবী মতবাদকে রুখে দেবেন তিনি। তার শঙ্কা ছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের প্রভাবে ইরাকের ভেতরও শিয়া মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

এ ছাড়া আরব-পারস্যের ঐতিহাসিক বিরোধ এই উত্তেজনার ঘিয়ে আগুন ঢালে। আঞ্চলিক ও সুপার পাওয়াররা বাইরে থেকে আগুনে বাতাস দেয়। তাতে দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত বড় আগুনের কুণ্ডে পরিণত হয়।

এসব কিছুর কারণেই ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইরানে হামলা করে বসে ইরাক। আট বছর স্থায়ী হওয়া এই যুদ্ধে দুই দেশেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব প্রবল থাকা সত্ত্বেও ইরাকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত উৎস’ থেকে সহায়তা পায় ইরান। আর সেই উৎসটি হচ্ছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের কাছ থেকে গোপনে সামরিক যুদ্ধাস্ত্র পেয়ে যুদ্ধের মোড় পাল্টে দেয় ইরান। আর সাদ্দামের বাহিনীর কাছে পরাজয়ও ঠেকাতে সক্ষম হয় তেহরান। ইসরায়েলের কাছে তখন সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল ইরাক। তাই ইরান ও ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শত্রুর বন্ধু হয়ে উঠেছিল তারা।

তবে শুধু অস্ত্র দিয়েই নয়, ইরানকে সামরিক পথনির্দেশও দিয়েছিল ইসরায়েল। এর বিনিময়ে ইসরায়েলকে গোপন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল ইরান।

তারই একটি জ্বলন্ত নজির অপারেশন অপেরা। ইরানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৮১ সালে এই অভিযান চালায় ইসরায়েল। এতে ইরাকের ওসিরাক পরমাণু চুল্লি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। নিজেদের পরমাণু শক্তিতে বলীয়ান করতে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল ইরাক। কিন্তু ইসরায়েল-ইরানের যৌথ প্রচেষ্টায় ইরাকের সেই স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়।

ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানজুড়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মনোভাব প্রবল হয়ে ওঠে। তখন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আউটপোস্ট মনে করা হতো। কিন্তু কৌশলগত কারণে একে অপরের ‘বন্ধু’ হয়ে ওঠে ইসরায়েল ও ইরান।

কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি স্পেয়াস পার্টস কিনতে পারছিল না তেহরান। আর সেটিকে ‘ট্রাম্প কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল। ইরানকে মার্কিন খুচরা যন্ত্রাংশ দিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ইসরায়েল।

তখনকার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কাছে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে ইসলামি বিপ্লবীরা কম বিপজ্জনক ছিল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কসবায় অ্যাম্বুলেন্স-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২

চার্জশিট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মোবাইল ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে জানাল গ্রামীণফোন

‘ভিক্ষা লাগবে না একটা পত্রিকা দেন, দেশের খবর জানি’ 

প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা থাকছে

যেভাবে দেখবেন অলিম্পিকে আর্জেন্টিনার ম্যাচ

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে খুলবে ঢাবি

স্থানীয় সরকারের ২২৩ পদে নির্বাচন স্থগিত

ভালো নেই মুরগি ব্যবসায়ীরা

গাজীপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানা

১০

পর্যটকশূন্য কাপ্তাই পর্যটনকেন্দ্রগুলো

১১

ফিফার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

১২

পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

১৩

৪ বিভাগে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

১৪

মোবাইলে অব্যবহৃত ইন্টারনেট প্যাকেজ সম্পর্কে যা জানা গেল

১৫

আর্জেন্টিনায় হতে পারে পরবর্তী কোপা

১৬

ঢাকার রাস্তায় তীব্র যানজট

১৭

নেপালে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, প্রায় সব আরোহী নিহত 

১৮

চাকরির প্রজ্ঞাপনে যা আছে

১৯

কারফিউ বিরতিতে চলবে দূরপাল্লার বাস

২০
X