ফরিদপুরে মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিতের আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শ্রমিকরা। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সড়ক অবরোধসহ ফরিদপুর থেকে সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকরা। শুক্রবার (৭ জুন) এ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। দুপুর ৩টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রেখে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শহরের দক্ষিণ কোমরপুর মহল্লার বাসিন্দা ও শ্রমিক মো. মাহাবুবউদ্দিন মোল্লা ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে এ নির্বাচনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে একটি আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই আদালতে জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল হামিদ গত বুধবার নির্বাচনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন।
এর আগে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ এ স্থগিতের আদেশ দেন। মাহাবুব উদ্দিন মোল্যা নামে এক শ্রমিক নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন।
মামলায় দ্বিতীয় পক্ষ করা হয়েছে শ্রমিক পরিচালকের দপ্তরের উপপরিচালক, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার ইউনিয়নের সভাপতি জোবায়ের জাকির, নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন পরিচালনাকারী কমিটির সদস্যসচিবকে। দ্বিতীয় পক্ষকে আগামী ২ জুলাই জবাব দিতে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা শহরের মধ্য দিয়ে চলাচলরত সব যানবাহন বন্ধ করে দেন। এ ছাড়া নতুন টার্মিনাল থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, আগামীকাল শুক্রবার আমাদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হঠাৎ করে দুপুরে জনতে পারি নির্বাচন হবেনা। স্থগিত করা হয়েছে। এ নির্বাচন কেন বন্ধ করা হলো? যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের নির্বাচন না দেবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ফরিদপুরে মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জুবায়ের জাকিরের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি স্বভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়। তাদের দাবি আগামীকাল যেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন