শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:১৮ এএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ
কোটা সংস্কার আন্দোলন

আহতরা সুস্থ হলেও থেকে যাবে ক্ষতচিহ্ন

পঙ্গু হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত
পঙ্গু হাসপাতাল। ছবি : সংগৃহীত

দাবি পূরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেমে গেছে। সেই আন্দোলন পুঁজি করে যে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিও এখন নিয়ন্ত্রণে। সংঘাতে যারা আহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই হাসপাতালে শয্যাশায়ী। কারও অস্ত্রোপচার শেষে হয়েছে, কারও কারও আবার প্রয়োজন হচ্ছে অস্ত্রোপচারের। একসময় তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু শরীরে গুলি ও আঘাতের ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াতে হবে সারাজীবন।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা বিষয়ে খোঁজ নিতে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ও প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা।

পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আহতদের চিকিৎসায় নিরলসভাবে কাজ করা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

সাভারের ব্যাংক মডেল টাউন এলাকার ইশরাক হোসেনের একমাত্র ছেলে ইমন। কারফিউর মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে বাসার সামনের রাস্তায় ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেন। সিট খালি না থাকায় ইমনকেও ভর্তি রাখেনি জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)।

জরুরি বিভাগের তথ্যমতে, নিটোরে এখন আর সিট ফাঁকা নেই। জটিল রোগীও ভর্তি রাখতে পারছে না। কারণ, চলমান সংঘাতে এখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৮৭ জন ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ভর্তি আছেন ৪২ জন। তাদের কয়েকজন বলেন, এই গুলির চিহ্ন আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে।

আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের তথ্যমতে, গত ১৮ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষে চোখে গুলি ও অন্যান্য আঘাত নিয়ে আহত হয়ে ৪২০ জন রোগী এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ৩১৪ জনকে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে ২৭৪ জনের। এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৫ জন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক জানান, এখানে যারা চিকিৎসাধীন ছিলেন বা আছেন, তাদের অনেকের চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আর কখনোই সারিয়ে তোলা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সহিংসতায় আহত হয়ে কোনো শিশু ভর্তি হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আগের চেয়ে রোগীর চাপ কম থাকলেও হাসপাতালটিতে কোনো শয্যা খালি নেই বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. ইয়াসির রহমান।

তিনি বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে শিশু হাসপাতালে রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে। সংকটময় পরিস্থিতির আগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসত।

এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী আসছে। তবে হাসপাতালের শয্যাও ফাঁকা নেই। তথ্য প্রকাশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, সংঘর্ষে আহত কয়েকজন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: কোটা সংস্কার আন্দোলন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি নেতার আবেদন

এশিয়ার সর্বপ্রথম মেডিকেল অ্যানাটমি লার্নিং অ্যাপ ভার্চুকেয়ারের উদ্বোধন করলেন সাকিফ শামীম

ছাত্রদল ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির আঁতুড়ঘর : মান্নান

মনোনয়নপত্র নিয়ে যে বার্তা দিলেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল

গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি

খালেদা জিয়া কখনো জোর করে ক্ষমতায় থাকেননি : খায়রুল কবির

জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে : সেলিমুজ্জামান

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, সন্দেহ রয়ে গেছে : মঞ্জু

১০

ঢাবির ৪ শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য চার্জ গঠন

১১

নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন নিয়ে যা জানাল কমিশন

১২

ইউজিসি কর্মচারী ইউনিয়নের নতুন কমিটির অভিষেক

১৩

গ্যাস যেন সোনার হরিণ, এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস

১৪

খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহ্নিশিখা : কবীর ভূঁইয়া

১৫

মুসাব্বির হত্যা নিয়ে মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

১৬

ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত হচ্ছে শিবিরের দ্বারা : ডা. আউয়াল

১৭

আইসিসিকে পাঠানোর বিসিবির নতুন চিঠিতে যা আছে

১৮

জবির ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার

১৯

মুদ্রা ছাপাতে প্রতি বছর ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা : গভর্নর

২০
X