সারা দিন না খেয়ে থাকে শিশুরা। পরনের পোশাক জীর্ণ। তীব্র পানি সংকট। চারপাশে বোমা আতঙ্ক। এটি ইসরায়েলের অভিযানে বিধ্বস্ত গাজার চিত্র।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংগঠন অক্সফাম জানিয়েছে, রাফায় গত ৬ মে স্থল অভিযান শুরু করার পর দিনে গড়ে মাত্র আটটি ত্রাণবাহী ট্রাক সেখানে ঢুকেছে। গাজার অধিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অবরুদ্ধ এ উপত্যকার আনুমানিক এক-পঞ্চমাংশের কম জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে থাকছে।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে পলায়নপর লোকজনকে পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দেওয়া সত্ত্বেও গাজার বেশির ভাগ স্থানই মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। দুর্ভিক্ষও দুয়ারে কড়া নাড়ছে।
গত মে মাসে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার চালানো জরিপে এই চিত্র দেখা গেছে। এই জরিপের আগে আরও একটি জরিপে দেখা গেছে, গাজার ৮৫ শতাংশ শিশু প্রতি তিন দিনে অন্তত একদিন সারা দিন না খেয়ে কাটিয়েছে। এই অবস্থায় দক্ষিণ গাজার উপকূলীয় আল-মাওয়াসির মতো কিছু এলাকা ‘মানবিক অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অথচ সেখানে পানি সরবরাহ বা স্যানিটেশন সেবা নেই বললেই চলে। অক্সফাম জানিয়েছে, ‘আল-মাওয়াসিতে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সেখানে ৫ লাখ মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ১২১টি টয়লেট। অর্থাৎ একটি টয়লেট ব্যবহার করছেন গড়ে ৪ হাজার ১৩০ জন।’
সব মিলিয়ে রাফা পরিস্থিতিকে অসহনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে সেখানে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। মানুষকে সাগরের পানির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।
মন্তব্য করুন