কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৩, ১০:২৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

‘পঞ্চম বল’ আবিষ্কারের কাছাকাছি বিজ্ঞানীরা, বদলে যাবে পদার্থবিদ্যার প্রচলিত ধারণা

ফার্মিল্যাবের এই বিশাল রিংয়েই মিউয়ন নামের অতিপারমাণবিক কণাকে প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ত্বরান্বিত করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ফার্মিল্যাব
ফার্মিল্যাবের এই বিশাল রিংয়েই মিউয়ন নামের অতিপারমাণবিক কণাকে প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ত্বরান্বিত করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: ফার্মিল্যাব

প্রকৃতির জানা চারটি বলের (ফোর্স) বাইরে সম্ভবত নতুন আরেকটি বলের অস্তিত্ব আবিষ্কারের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফার্মিল্যাবের বিজ্ঞানীরা। যদি এই ‘পঞ্চম বল’ এর অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি শত বছরের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়ে উঠতে পারে। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন এক যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাত্যহিক জীবনে আমরা যেসব বলের অভিজ্ঞতা লাভ করি সেগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত প্রকৃতির চার ধরনের বল সম্পর্কে আমরা জানি। এগুলো হলো—মহাকর্ষ বল, তড়িৎ-চৌম্বকীয় বল, সবল নিউক্লীয় বল ও দুর্বল নিউক্লীয় বল। এখন পর্যন্ত বিশ্বাস করা হয়—এই চারটি মৌলিক বলই নির্ধারণ করে দেয়, মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু এবং কণা কীভাবে একে অপরের ওপর ক্রিয়া করবে।

প্রকৃতিতে পঞ্চম আরেকটি বল থাকতে পারে বলে ২০২১ সালেই ধারণা করেছিলেন ফার্মিল্যাবের বিজ্ঞানীরা। পরে এ বিষয়ে তারা আরও ব্যাপক গবেষণা শুরু করেন।

এ বিষয়ে ল্যাবটির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. ব্রেন্ডন কেসি বলেন, ‘আমরা সত্যিই নতুন কিছু অনুসন্ধান করছি। আমরা অতীতের চেয়ে আরও নির্ভুলভাবে পরিমাপগুলো করার চেষ্টা করছি।’

জি-মাইনাস-টু নামে একটি পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা মিউয়ন নামের অতিপারমাণবিক কণাগুলোকে ১৫ মিটার ব্যাসের একটি রিংয়ের মধ্যে ত্বরান্বিত করেছেন। এ ক্ষেত্রে কণাগুলোকে তারা অন্তত ১ হাজার বার আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে ঘুরিয়েছেন। তারা দেখেছেন, কণাগুলো একটি সম্ভাব্য অজানা বলের কারণে এমন আচরণ করছে যেটিকে অতিপারমাণবিক কণার আদর্শ মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

প্রমাণগুলো খুব শক্তিশালী হলেও বিজ্ঞানীরা এখনই কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাননি। তারা আশা করছেন, সেটি পেয়ে যাবেন।

উল্লেখ্য, আমাদের চারপাশের জগতের সবকিছুই পরমাণু দিয়ে তৈরি। পরমাণুগুলো আবার আরও ছোট কণা দিয়ে তৈরি। বস্তু ও কণার পরস্পরিক ক্রিয়া নির্ভর করে চারটি মৌলিক বলের ওপর— তড়িৎ চৌম্বকীয় বল, সবল নিউক্লীয় বল, দুর্বল নিউক্লীয় বল এবং মহাকর্ষ বল।

অতিপারমাণবিক কণাগুলোর আচরণ একটি আদর্শ মডেল দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়। পঞ্চাশ বছর ধরে এই মডেলই তাদের আচরণ সম্পর্কে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক ফলাফলে কখনো কখনো এর ব্যত্যয় পাচ্ছেন। একাধিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, আদর্শ মডেল একটি কণার আচরণ সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করে তার সঙ্গে ফলাফলগুলো মেলে না।

মিউয়ন হচ্ছে ইলেকট্রনের মতোই একটি কণা। এটি পরমাণুকে প্রদক্ষিণ করে এবং বৈদ্যুতিক প্রবাহের জন্য এরা দায়ী। তবে এদের ভর ইলেকট্রনের চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কবে কমবে তাপমাত্রা জানাল আবহাওয়া অফিস

দুই দশক পর আজ সিলেট যাচ্ছেন তারেক রহমান

১৯ দিনে রেমিট্যান্স ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা

পিএসএল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন পাকিস্তানি তারকা

চার নায়কের মাঝে শাবনূর

ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা

দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন এনসিপি নেত্রী

‘ভেতরের সিদ্ধান্ত জানি না, তবে বিশ্বকাপে খেলতে চাই’

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পদ হারালেন ছাত্রশক্তি নেতা 

বোয়ালখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ঢাকায় গ্রেপ্তার

১০

৮ জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা

১১

নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ আগুন

১২

শিগগিরই তাপমাত্রার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াতে পারে, এরপর কী হবে?

১৩

রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় নিহত ১

১৪

কুমিল্লায় সরে দাঁড়ালেন ১০ জন, ভোটের মাঠে ৮০ প্রার্থী

১৫

নির্দেশনা থাকলেও মানেননি ফেনীতে জোটের এই ৪ প্রার্থী

১৬

বিপিএল মাতাতে ঢাকায় কেন উইলিয়ামসন

১৭

ওয়ালটনের পরিচালক মাহাবুব আলম মৃদুলের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশব্যাপী দোয়া-মোনাজাত

১৮

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংকট / বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিতে চিঠি দিল পিসিবি

১৯

ধানুশ ম্রুনালের তালিকার কততম প্রেমিক?

২০
X