তৌহিদুল ইসলাম তারেক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪, ০৬:৪৭ এএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৮:৫৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অবসরের পরেও চেয়ারে তিনি, ৩ দিনে ৩৪ কোটি টাকার ঘুষ

ফাইল স্বাক্ষরের সময় সেবা গ্রহীতা থেকে ঘুষ নিচ্ছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আব্দুল মালেক।  ছবি : সংগৃহীত
ফাইল স্বাক্ষরের সময় সেবা গ্রহীতা থেকে ঘুষ নিচ্ছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আব্দুল মালেক। ছবি : সংগৃহীত

অবসরে গিয়েও প্রতিদিনের মতো অফিসে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসে রীতিমতো ফাইল স্বাক্ষর করছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক আব্দুল মালেক। এমনকি সন্ধ্যার পরেও গোপনে অফিসে এসব কাজ করছেন তিনি। আর এসব ফাইলে স্বাক্ষর করা হচ্ছে ১৫ তারিখের আগের তারিখ বসিয়ে। এতে ব্যাপক ঘুষ লেনদেন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ মে) সরেজমিনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়ে ফাইল ডেসপাস শাখায় কালবেলার পক্ষ থেকে রেজিস্টার খাতা দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই ওই খাতা দেখাতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। এর আগে রোববার (১৯ মে) অধিদপ্তরে গিয়ে আব্দুল মালেককে সশরীরে অফিস করার সত্যতা মেলে।

জানা যায়, গত ১৫ মে অবসরে গেছেন এ আব্দুল মালেক। এ অবসরও তাকে অফিস করা বন্ধ করতে পারছে না। অফিস যেন এক অদৃশ্য মায়ায় আবদ্ধ করে রেখেছে তাকে। ১৬ মে থেকে ২০ মের মধ্যে অফিস খোলা ছিল মাত্র তিন দিন। আর এ তিন দিনে ১৭২টি প্রোজেক্ট ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এসব ফাইলে স্বাক্ষর করা হচ্ছে ১৫ তারিখের আগের তারিখ বসিয়ে। প্রতিটি ফাইলের জন্য নিয়েছেন ২০ লাখ টাকা করে। তাছাড়া ছোটখাট ফাইলও ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর করেন না তিনি। অবসরের পরে এ তিন দিনে অফিস করে সব মিলিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩৪ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো চিঠি বা ফাইল স্বাক্ষরের পর অধিদপ্তরের ডেসপাস শাখায় স্মারক নম্বর বসিয়ে রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু অভিযোগ পাওয়া যায়, পেছনের তারিখ বসিয়ে যেসব ফাইল স্বাক্ষর করা হয়েছে, সেগুলো বিতরণ শাখা থেকে পেছনের তারিখ বসিয়ে হস্তান্তর করার জন্য রেজিস্টার খাতা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ১২ মে থেকে ১৫ মে তারিখের রেজিস্টারে যেসব জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে সেখানে পুরোনো তারিখ বসিয়ে ফাইলগুলো হস্তান্তর করা হবে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে কালবেলার পক্ষ থেকে রেজিস্টার খাতা দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই ওই খাতা দেখাতে রাজি হয়নি অধিদপ্তরের মিডিয়া মুখপাত্র ও পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন। এমনকি অবসর গ্রহণের পর আব্দুল মালেকের অফিস করার বিষয়েও কর্তৃপক্ষ কিছু জানতে না বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এসব বিষয়ে কথা বলতে মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চাইলে অফিসে থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে রোববার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়ে সরাসরি আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক দেখে কথা না বলে দ্রুত সটকে পড়েন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমেরিকা প্রবাসী মামার জন্য ছাগল কেনেন ইফাত

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ / হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে কি ইসরায়েল হেরে যাচ্ছে?

আওয়ামী লীগ দলে বাড়ছে তরুণনির্ভরতা

অস্ট্রেলিয়ায় নেমেসিসের তিন কনসার্ট

নানা আয়োজনে বাগেরহাটে কবি রুদ্রের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

তীব্র গরমে সৌদিতে এক হাজারের বেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

এবার পাকিস্তান অধিনায়কের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ

তারা সুতারিয়ার স্বপ্ন

উজানের পানিতে গাইবান্ধায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

১০

সড়ক দুর্ঘটনায় লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ইরান আহত 

১১

‘জামায়াতের সর্বস্তরের জনশক্তি বন্যার্তদের পাশে রয়েছে’ 

১২

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার নিবন্ধ / ‘প্রতিবেশী কূটনীতিতে বাংলাদেশ’

১৩

যার ওপর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে

১৪

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন ‘কৈ মাছের প্রাণ’

১৫

চট্টগ্রামে পাহাড়ি ঝরনা থেকে পড়ে পর্যটক আহত

১৬

‘প্রধানমন্ত্রী এবার কী নিয়ে আসেন, জনগণ তা দেখার প্রতীক্ষায়’

১৭

বন্যা থেকে সিলেটবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

১৮

এবার মানব বীর্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত

১৯

সাংবাদিক মুজাহিদ মসির বিরুদ্ধে হয়রানি মামলা, তদন্তে মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনা

২০
X