শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:২৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অন্য দেশের পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তার ঘিরে নাটকীয়তা

হ্যান্ডকাপ ও আদালতের সরঞ্জাম। ছবি : সংগৃহীত
হ্যান্ডকাপ ও আদালতের সরঞ্জাম। ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইতালিতে লিবিয়ার পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পর আসে ভিন্ন খবর। টানটান উত্তেজনার মধ্যে সৃষ্টি হয় নাটকীয় পরিস্থিতির। শেষমেশ ওই পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তার রাখতে পারেনি ইতালি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানা অনুসারে গ্রেপ্তার হওয়া লিবিয়ার বিচারিক পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে ইতালি মুক্তি দিয়েছে।

ইতালির বিচার মন্ত্রণালয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, সাময়িক সময়ের জন্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নাজিম ওসেমা আলমাসরি হাবিশ। তবে লিবিয়ার সরকারি রেকর্ডে তার নাম ওসামা নজিম। মুক্তি পেয়ে এ ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে একটি ফ্লাইটে উঠেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আইনি জটিলতার কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ তাকে গ্রেপ্তার করা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিচার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে ব্যর্থ হয়।

আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের তথ্যের ভিত্তিতে রোববার উত্তর ইতালির শহর তুরিনে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিবাসী উদ্ধারকারী গোষ্ঠী এবং মানবাধিকার দাতব্য সংস্থাগুলো তার গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানায়।

ইতালীয় দৈনিক অ্যাভভেনাইর সর্বপ্রথম গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে। তারা জানায়, নজিম লিবিয়ার বিচার বিভাগীয় পুলিশে কর্মরত থেকে ত্রিপোলিতে একটি অভিবাসী আটক কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। তিনি শক্তিশালী সামরিক বিশেষ ডিটারেন্স ফোর্সের সাথে যুক্ত ছিলেন।

ইতালির বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসি কর্তৃক ওয়ান্টেড নাজিম ইতোমধ্যে ত্রিপোলিতে ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি লিবিয়ার বিচার বিভাগীয় পুলিশের প্রধান এবং মিতিগা কারাগারের পরিচালক ছিলেন বলে জানা গেছে। ত্রিপোলির কাছে অবস্থিত এই কারাগারে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী, অভিবাসী ও শরণার্থীদের নির্বিচারে আটক, নির্যাতন করা হতো। নাজিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি এখনো কারাগারের কোনো ভূমিকায় আছেন কি না তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে ইতালির বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে অন্য কূটনৈতিক যোগসাজশ থাকতে পরে।

প্রসঙ্গত, ইতালীয় অভিবাসী উদ্ধার দাতব্য সংস্থা মেডিটেরেনিয়া, জাতিসংঘ, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের মতো আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো লিবিয়ায় অভিবাসীদের ব্যাপক নির্যাতন ও শোষণের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তারা এসব নির্যাতন সমর্থন এবং উৎসাহিত করার পেছনের কারিগরদের সমালোচনায় মুখর। সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনে দায়ীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে সোচ্চার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল

প্রবাসীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস

নির্বাচনে এমএফএসের অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা

আন্দোলনে এনসিপি নেতাদের কী অবদান, প্রমাণ চেয়ে জিএম কাদেরের চ্যালেঞ্জ 

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত দম্পতিকে খুঁজছে পুলিশ

বিগত ১৫ বছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছিল : তারেক রহমান

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে যা বলল জাতিসংঘ

বিএনপির আরেক নেতাকে গুলি

এবার দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

১০

এবার পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন সাবেক অধিনায়ক

১১

তারেক রহমানের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টির আহ্বান সালামের

১২

চট্টগ্রাম-৫ আসন / মীর হেলালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

১৩

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদের দিনভর গণসংযোগ

১৪

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ফজলুর রহমান

১৫

বার্সেলোনা শিবিরে দুঃসংবাদ, কোচের কপালে ভাঁজ

১৬

নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে পাঁচ কর্মসূচি প্রকাশ বিএনপির

১৭

৪৬তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা পিএসসির

১৮

এআই ভিডিও এবং অপতথ্য নির্বাচন ও নিরাপত্তায় হুমকি

১৯

অস্ট্রেলিয়ায় গোলাগুলিতে নিহত ৩, হামলাকারী পলাতক

২০
X