কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪, ০৪:১১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

পুতিনের হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে ন্যাটো?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি : সংগৃহীত

স্নায়ু যুদ্ধের পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যেই দুই পক্ষই নিজেদের পরমাণু নিয়ে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছে।

শুধু তাই নয় রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের অস্ত্রও মাঠে নামিয়েছে মার্কিন সামরিক জোট ন্যাটো। এমন অবস্থায় অনেকেই মনে করছেন ইউক্রেনের মাটিতে নিজেদের মৃত্যুই ডেকে আনছে বিশ্বের বৃহত্তম এ সামরিক জোটটি। সত্যিই কি তাই?

ইউক্রেনকে সুরক্ষা দেয়ার কথা বললেও গোপনে ইউরোপের দেশটি নিয়ে নিজেদের নীতি বদলে ফেলেছে মার্কিন প্রশাসন। ফলে রুশ বাহিনীর মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যা চাইছেন তার সবটা পূরণ হবে না।

এশিয়া টাইমসে লেখা এক নিবন্ধে এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক উপকমিটির সাবেক প্রধান পরিচালক স্টিফেন ব্রায়েন।

ইউক্রেন নিয়ে নিজেদের নীতি পাল্টালেও মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। তবে তার সীমানাও নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে মারাত্মক সেনা ঘাটতিতে রয়েছে জেলেনস্কি বাহিনী। দিন যত গড়াচ্ছে, যুদ্ধে হতাহত সেনার সংখ্যা ততই বাড়ছে।

রুশ সূত্র বলছে, মে মাসে ৩৫ হাজারের মতো ইউক্রেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই শূন্যতা সহজেই পূরণ করতে পারছে না কিয়েভ।

অন্যদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নতুন করে বিপুল সেনা মোতায়েন করছে রুশ বাহিনী। মনে করা হচ্ছে, খারকিভ অঞ্চলে শক্তি বাড়াতে এসব সেনা বাড়াচ্ছে মস্কো। আবার অন্যদের মতে, সামি অঞ্চলে নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলতে চাইছে রাশিয়া।

অনেক সামরিক বিশ্লেষক আবার মনে করছেন, রাশিয়া খুব শিগগির নিয়ন্ত্রণরেখাজুড়ে হামলা জোরদার করবে, যাতে আরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে তারা।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ানদের আক্রমণের চাপে ইউক্রেনের পতন ঘটতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছে ন্যাটো। আর এমনটা ঘটলে কী করতে পারেন পুতিন তা ভালো করেই অনুমান করতে পারছে ন্যাটো জোট।

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতায় রাজি নয় ন্যাটো। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এমনটা হলে তা হবে জো বাইডেনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা অস্ত্র দিয়ে রুশ ভূখণ্ডে হামলা ইউক্রেন যুদ্ধের গতিধারাকে বদলে দিতে পারে।

পশ্চিমাদের নতুন এই নীতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। রাশিয়া অবশ্যই এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে চাইবে।

আর তা হলে যে কোনো ধরনের কোনো প্রতিশোধের ঘটনা ইউরাপে বড় পরিসরে যুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে ন্যাটো যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিমান হামলা কিংবা স্থলসেনা পাঠায় তাহলে পরিস্থিতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আর এতে অনেক ন্যাটো সদস্যই একমত নয়। হতে পারে ইউক্রেনের মাটিতেই ন্যাটো তার ধ্বংস ডেকে আনবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেব-শুভশ্রীর বিয়ে হলে ভালো হতো : রাজ

আবারও বেকহ্যাম পরিবারকে আক্রমণ, কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আনলেন ছেলে

জামায়াতকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন খেলাফত মজলিসের প্রার্থী

সীমান্তে অর্ধশতাধিক স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত আশুলিয়া থানার রুবেল হাওলাদার

এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন প্রস্তাব

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বিমান মোতায়েনের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

বিএনপির ২ নেতা বহিষ্কার

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে : দিপু ভুঁইয়া

১০

একই দিনে ‘দুইবার’ মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান

১১

‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় প্রকাশ

১২

এবার র‌্যাঙ্কিংয়ে সেনেগালের ইতিহাস, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

১৩

নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বিস্ফোরণ, শ্রমিক নিহত

১৪

থাইল্যান্ড যেতে চান আসিফের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম, মেলেনি অনুমতি

১৫

ফাঁকা রাখা ৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

১৬

ঘুম ভাঙতেই তরুণী দেখলেন বুকের ওপর অজগর

১৭

ঢাকার-১৩ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৫ প্রার্থী

১৮

সুখবর পেলেন বিএনপির আরেক নেতা

১৯

উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে আরও সেনা মোতায়েন ডেনমার্কের

২০
X