তামাককে মাদকের প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ধূমপান কিশোর-তরুণদের মাদক সেবনের পথে নিয়ে যেতে উসকে দিচ্ছে। চলচ্চিত্র, টিভি নাটক এবং ও সিরিজের ধূমপানের দৃশ্য-কিশোর-তরুণদের ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করছে। এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে জানান তারা।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে তথ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্যের বাধ্যবাধকতা ও আইনের কার্যকারিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়।
মূল প্রবন্ধে মানসের প্রকল্প সমন্বয়কারী উম্মে জান্নাত বলেন, বাংলাদেশের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ধারা-৫ এ তামাকজাতদ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই ধারায় সিনেমা, নাটক বা প্রামাণ্যচিত্রে তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রচার, প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু, অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আইনে নিষিদ্ধ থাকলে ও সাম্প্রতিককালে নির্মিত জনপ্রিয়তা পাওয়া একাধিক চলচ্চিত্রে, পোস্টার ও ট্রেইলারে প্রধান চরিত্রগুলো দ্বারা অসংখ্যবার ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। নাটক এবং বর্তমানে তরুণদের মাঝে অধিক জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত ওয়েবসিরিজগুলোতেও ধূমপানের দৃশ্য চলছে দেদার। যা আমাদের কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানে প্ররোচিত করছে।
বাংলাদেশ ক্যানস্যার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বক্তব্যে বলেন, মাদকাসক্তি ও ধূমপান যুবকদের কর্মক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। উৎপাদনশীল যুব শক্তি গড়ে না উঠলে স্মার্ট বাংলাদেশ করা কঠিন হবে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন বক্তব্যে বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এফডিসি সব ধরনের সহায়তা দিতে আগ্রহী।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস বলেন, নাটক ও সিনেমার স্বার্থ রক্ষায় ধূমপান প্রমোট করে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস করা হচ্ছে। আমাদের সুস্থ বিনোদন প্রয়োজন। ধূমপানের মতো সমাজের ক্ষতি করে, এমন বিষয়গুলো আমরা মেনে নিতে পারি না।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা ডিএফপির মহাপরিচালক এস এম গোলাম কিবরিয়া জাতীয় স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দেন। প্রয়োজনে তরুণদের বাঁচানোর জন্য আইন সংশোধন করা যেতে পারে, তরুণদের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে রক্ষা করতে হবে। প্রধান অতিথি সারা দেশে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপরতন চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন, যা তামাকমুক্ত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। মাদক ও তামাকমুক্ত দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নিজামুল কবীর তার বক্তব্যে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও তামাকবিরোধী সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এ ব্যাপারে তার অধিদপ্তরের সহযোগিতা থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, ডিএফপির পরিচালক (প্রশাসন ও প্রকাশনা) মোহাম্মদ আলী সরকার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সরবোর্ডর ভাইস-চেয়ারম্যান খালেদা বেগম, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, মানস-এর সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান তালুকদার প্রমুখ। প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট ও কমিউনিকেশন অফিসার আবু রায়হান।
সভায় চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ফিল্ম সেন্সর বোর্ড, চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, প্রত্যাশা, এইড ফাউন্ডেশন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরো-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাস ও নাটাব-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন