কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০৫:২১ পিএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র আন্দোলন সামলানোর ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে : জয়

সজীব ওয়াজেদ জয় ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি পুলিশের অবস্থান। পুরোনো ছবি
সজীব ওয়াজেদ জয় ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি পুলিশের অবস্থান। পুরোনো ছবি

ছাত্র আন্দোলন সামলানোর ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জয় বলেন, প্রথম থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারের কোটার বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত ছিল।

বুধবার প্রকাশিত এ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সরকারের কোটার বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত ছিল। এমনকি এটি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে শুরু থেকেই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।

জয় বলেন, কোটা কমানোর জন্য আমাদের সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। তবে আদালত ভুল করেছে। আমরা সবাইকে কোটা চাই না বলে আশ্বস্ত করার সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সেটা শোনেনি এবং বিচার ব্যবস্থার ওপরই বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছে।

জয় দাবি করেন, ছাত্রদের এ আন্দোলন সহিংস হওয়ার পেছেনে একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাত ছিল।

তিনি বলেন, একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা এ আন্দোলনের পেছনে ছিল বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। কারণ অনেক আন্দোলনকারীর কাছে ১৫ জুলাই থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গত ১৫ বছর ধরে আমরা জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছি। ফলে বাংলাদেশে এখন আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া খুবই কঠিন। বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার ও আন্দোলনকারীদের কাছে সরবরাহ একমাত্র কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাই করতে পারে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়ে জয় বলেন, একদিন আগেও তিনি বা তার মা কেউ ভাবেননি- পরিস্থিতি এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। মায়ের দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন। এ ছাড়া জনগণের উদ্দেশে তিনি একটি ভিডিওবার্তায় বিষয়টি নিয়ে ঘোষণার কথা ভেবেছিলেন। এজন্য তিনি বিবৃতির খসড়া তৈরি করেছিলেন এবং সেটি রেকর্ড করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পিত ছিল। তবে তিনি যখন রেকর্ডিং শুরু করতে গেলেন বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ‘সময় নেই’ বলেন জানিয়ে দেন। তারা বলেন, ম্যাম, সময় নেই। আমাদের এখন যেতে হবে।

জয় বলেন, শেখ হাসিনা দেশ না ছাড়ার জন্য অনড় ছিলেন। তিনি মাকে রাজি করিয়েছেন। এরপর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী তাকে সামরিক বিমানঘাঁটির মধ্যে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তিনি যেতে চাননি। তখনই আমার খালা (শেখ রেহানা) আমাকে ডাকলেন। আমি মাকে বোঝালাম, তোমার নিরাপত্তার জন্য তোমাকে চলে যেতে হবে। যদি এই জনতা তোমাকে খুঁজে পায়, কোথাও ধরে ফেলে এবং সেখানে গুলি চলে, তাহলে অনেক মানুষ মারা যাবে। হয় তোমাকে এ হত্যার জন্য দায়ী করবে কিংবা যদি তোমাকে ধরে ফেলে তাহলে মেরে ফেলবে। তাই সবচেয়ে ভালো হবে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া এবং আমিই তাকে চলে যেতে রাজি করিয়েছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: কোটা সংস্কার আন্দোলন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিটিআরসির ওএসডি ৬ কর্মকর্তাকে পুনঃপদায়নে উদ্যোগ 

শিক্ষকদের বেতন-সুবিধা বাড়ল, জুলাই থেকে কার্যকর

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা

গান বাংলার তাপসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে : তারেক রহমান 

নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সুখবর দিল ভারত

হাফেজ্জী চ্যারিটেবলের উপদেষ্টা হলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন ও মো. ইলিয়াস

কল্কির সিক্যুয়েলে সাই পল্লবী

বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করল চীন

শুক্রবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

১০

স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু

১১

এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন

১২

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে দুঃসংবাদ

১৩

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

১৪

রাতে ঘুম না এলে যে দোয়া পড়তে বলেছেন নবীজি (সা.)

১৫

বিতর্কে দিলজিৎ দোসাঞ্জ

১৬

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাজিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

১৭

ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান আমিনুলের 

১৮

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের

১৯

রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমান

২০
X