মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪, ০২:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সৌদি-ইসরায়েলের গোপন চুক্তি!

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো  বাইডেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

বাবা-ছেলের চক্রান্তে সৌদি বাদশাহী আসল হকদারকে হটিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ করা হয়। তাই ক্ষমতার লোভে অন্যের স্বার্থ যে জলাঞ্জলি দিতে সৌদি যুবরাজের একটুও বাঁধবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে যখন নিজের মুসলিম ভাইবোনদের নির্বিচারে হত্যা করছে ইসরায়েল- অথচ সংঘাত বন্ধে বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কার্যত আর কোনো পদক্ষেপই নেয়নি সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে সৌদি আরব। আর ধর্মীয় কারণেও বিশ্বের মুসলিমদের কাছে সৌদি আরবের অন্য রকম গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর ভিন্ন এক সৌদি আরব দেখছে বিশ্ব। নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে যেমন শক্ত হাতে দমন করেছেন, তেমনি সামরিক সক্ষমতায় নির্বুদ্ধিতারও পরিচয় দিয়েছেন।

ইয়েমেনে বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্র ব্যবহার করছে সৌদি আরব, এমন উদ্বেগ থেকে ক্ষমতা বসেই রিয়াদের কাছে আগ্রাসী অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করেন বাইডেন। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, সেই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সৌদি আরবের মার্কিন অস্ত্র কেনা নিয়ে পর্দার পেছনে আরও একটি বিষয়ে দর কষাকষি চলছে, তা হচ্ছে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরব সম্পর্ক স্থাপন। এখন বাইডেন প্রশাসন যদি অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তাহলে এর মানে দাঁড়াচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে রাজি হয়েছে রিয়াদ। আর যদি এমনটা ঘটে, সেটি ফিলিস্তিনিদের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সামিল হবে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চাপ রয়েছে। ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী, তেল আবিব ও রিয়াদ হাত মেলাতে অস্ত্র বিক্রিতে বাধা নেই। ফাইন্যানশিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে তা বাইডেন প্রশাসন ও রিয়াদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার দিকেই ইঙ্গিত করবে।

চলতি সপ্তাহে কয়েকজন সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন ও রিয়াদ বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদনের খুব কাছাকাছি রয়েছে। প্রতিরক্ষা চুক্তি ছাড়াও সৌদির বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা মতো বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত। এসব চুক্তির সঙ্গে আরও একটি বিষয় জড়িয়ে আছে, তা হচ্ছে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদির সম্পর্ক স্থাপন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকতে ৯ বছর আগে অনেকটা তাড়াহুড়ো করে ইয়েমেনে রিয়াদের বন্ধুবৎসল সরকারের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে নিরপরাধ বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা করেছে সৌদি আরব। এরপরই রিয়াদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করে দেন বাইডেন।

মাঝখানে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড ওয়াশিংটন-রিয়াদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের নীতি বাস্তবায়নে সৌদি আরবের বিকল্প নেই বলে উপলব্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার মুসলিম বিশ্বে বন্ধু বাড়াতে মিত্র ইসরায়েলের আবদার মেটানোরও একটা বাড়তি চাপ আছে। সবমিলিয়ে গেল তিন বছরের তিক্ততা ভুলে সামনে এগোতে চাইছে ওয়াশিংটন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরিষা ফুলের হলুদ মোহ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

একীভূত হচ্ছে সরকারের ৬ প্রতিষ্ঠান

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ইইউবি’র মামলা

বিশ্বকাপে না থাকা বাংলাদেশের প্রতি যে বার্তা দিল স্কটল্যান্ড

দেশে মাদক সেবনকারী ৮২ লাখ, প্রায় ৬১ লাখই গাঁজাখোর

চমক রেখে বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

একটি দল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে : দুলু

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রাশেদ গ্রেপ্তার

ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিকের ওপর হামলা বিআরটিএ’র কর্মকর্তার

৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ বৈঠক

১০

আগামীতে নারীদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা আছে : জামায়াত

১১

ডেমোক্র্যাটের মুসলিম নারী সদস্যের সম্পদ নিয়ে তদন্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

১২

ভোটের দিন ফজর নামাজ পড়ে কেন্দ্রে যাবেন, ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরবেন : কায়কোবাদ

১৩

‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জাতি দায়মুক্ত হতে পারে না’

১৪

সন্ত্রাসী হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত

১৫

বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি জোরালো হচ্ছে

১৬

সাফে ব্যর্থতার নেপথ্যে কি ইনতিশার!

১৭

নারীদের মর্যাদা নিশ্চিত হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই : জামায়াত আমির

১৮

ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, প্রাণ গেল ১১ জনের

১৯

আইইউবিএটির সমাবর্তনে বৈশ্বিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

২০
X