কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গুপ্তচরাবৃত্তির অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করল ইসরায়েল

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক দুই ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক দুই ফিলিস্তিনি শিশু। ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে মাত্র পাঁচ ও ছয় বছর বয়সী দুই ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনারা। সোমবার পুরনো শহরের ভেতরে ঘটে এই ঘটনা। সেনারা দাবি করেছে, শিশুরা নাকি এক ইসরায়েলি দখলদার বসতির বাড়ি ‘গোয়েন্দাগিরি’ করছিল।

তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশুরা আসলে বাড়ির কাছেই ফুটবল খেলছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় আধা ঘণ্টা আটক রাখার পর ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীদের হস্তক্ষেপে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত দুই শিশু আতঙ্কে কাঁদছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময় একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়— সশস্ত্র এক ইসরায়েলি সেনার সামনে কাঁদতে কাঁদতে হাত ধরে আছে দুই শিশু। অন্য এক ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা সেনাদের সঙ্গে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু সেনারা তাদের বারবার উপেক্ষা করছে।

হেবরনের আইন আসকার পাড়ার বাসিন্দা বদর আল-তামিমি আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘শিশুরা আতঙ্কে কাঁদছিল, এখনো তারা ভয়ের মধ্যে আছে। সেনারা যে বাড়িটি কিছুদিন আগে দখল করে নিয়েছিল সেটি সংস্কার করছিল। শিশুরা অসচেতনভাবে সেই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যায়। আর সেটাকেই গোয়েন্দাগিরি বলে অভিযোগ করা হয়।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, ‘এটি ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের নিষ্ঠুর বাস্তবতার প্রতিফলন। ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চলাফেরার অধিকার প্রতিনিয়ত অস্বীকার করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই শিশুদের হত্যা, আহত কিংবা নির্বিচারে আটক করছে ইসরায়েলি বাহিনী।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ, কারফিউ ও নির্বিচারে গ্রেপ্তারের মতো নীতি চালু রয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে গণগ্রেপ্তার ও শিশুদের আটকের মতো ঘটনা ঘটছে।

প্রসঙ্গত, গাজায় গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় ২০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোয়ালন্দে ওয়ে ব্রিজ স্কেলের গার্ডার ভেঙে বন্ধ ওজন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ট্রাকচালকরা

নড়াইল জেলা ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র আহ্বায়ক জাকারিয়া, সদস্যসচিব সাগর

স্কুলে যাওয়ার পথে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, থানায় মামলা

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে ববি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

১০

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

১১

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

১২

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

১৩

নতুন বাংলাদেশ গড়তে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

১৪

‘রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে’

১৫

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারিতে যে শাস্তি পেতে পারেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

১৬

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়তে চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, দাবি ট্রাম্পের

১৭

হুতিদের হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেল ২ সৌদি জাহাজ

১৮

চুক্তি আগস্টে / এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

১৯

উন্নয়ন কোনো দলের নয়, জনগণের অধিকার: মান্নান

২০
X